ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উদ্যোগে নানা কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ওয়ান হেলথ ডে বা এক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপিত হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাক্ট টুগেদার ফর ওয়ান হেলথ’।
এ উপলক্ষে ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করে উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওয়ান হেলথ ধারণা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সৃজনশীল অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হয় বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে। বিভিন্ন প্রতীকী উপস্থাপনা, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার নিয়ে ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা র্যলিতে অংশ নেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা–কর্মচারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫০ জনের বেশি মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ওয়ান হেলথ ডে উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ড. ইউসুফ এলাহী চৌধুরী। ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো.আহসানুল হকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মূল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জিয়া উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে সংক্ষিপ্ত প্যানেল আলোচনা সভা বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল আল ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক গৌতম কুমার দেবনাথ, ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিরীন আক্তার, মৎস্য অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুর রহমান খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এম এ সাত্তার এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। আলোচনায় জনসাধারণের মাঝে ওয়ান হেলথ ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার এবং এটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিষয় ও শাস্ত্রের মধ্যে সমন্বয়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আন্তঃবিষয়ক গবেষণার গুরুত্ব উঠে আসে।
সাউদার্ন মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মিনহাজুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক পর্বে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের মডেল, এক্ষেত্রে বিদ্যমান সম্ভাবনা নিয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বায়োটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. মোহাম্মদ সওগাত ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক এ কে এম সাইফুদ্দিন ও অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে চলমান ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ল্যাবরেটরিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের নিয়মিত প্রকাশনার ধারাবাহিকতায় নিউজলেটারের দ্বিতীয় ভলিউমের প্রথম সংখ্যা উন্মোচন করা হয়। এছাড়া ওয়ান হেলথ চট্টগ্রাম বিভাগীয় লোকাল চ্যাপ্টারের নবগঠিত কমিটি প্রকাশ করা হয়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিভাসু অ্যালামনাই ও সিভাসু–এপি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডা. রাশেদ মাহমুদ। পরে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন এবং বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করেন ওয়ান হেলথ ইয়ং ভয়েস বাংলাদেশ শাখার তরুণ শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এপি–অ্যালামনাই, এমপিএইচ অ্যালামনাই, ন্যাশনাল ডিবেইট ফোরাম, বাঁধনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মো. শাহরিয়ার হোসেন তালুকদার, সাদমান ফায়াজ, মাহেদী হাসান সানি, শোয়েব, তানভির ভূঁইয়া ডা. সৈয়দা মুনিরা দিলশাদ, জেরিন, সিদরাতুল মুনতাহা, জোয়াইরা মাহজাবীন নিয়ন্তা, ডা. মো. শহিদুর রহমান, ডা. জাহান আরা মেহেরজান, ইসলাম আশরাফি প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












