কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার পানি চলাচলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিস্কার না করাসহ ময়লা–আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে পৌরশহর চিরিঙ্গার অনেক স্থানে। বিশেষ করে শহরের থানা রাস্তার মাথা থেকে মহাসড়কের বক্স রোডের দুই পাশের বিশাল এলাকাজুড়ে এই জলাবদ্ধতার কারণে মাথায় হাত উঠেছে উভয়পাশের ব্যবসায়ীদের।
সরেজমিন দেখা গেছে–চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গার থানা রাস্তার মাথার উত্তরাংশে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের দুই পাশ পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সড়ক দুটি কয়েকফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এতে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে কয়েকফুট পানি মাড়িয়ে। এমনকি এই দুই পাশের শত শত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও জলাবদ্ধতার কারণে কার্যত বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন এসব ব্যবসায়ীরা। এই অবস্থায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়া সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে গত ১০ দিন ধরে ব্যবসা–বাণিজ্য লাঠে উঠেছে জানিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী চকরিয়া নির্মাণ টাইলস্ এর স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম রানা বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই আমাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সামনের একমাত্র সড়ক কয়েকফুট পানিতে তলিয়ে যায়। একদিন বা দুইদিন নয়, একনাগাড়ে ১০দিন অতিবাহিত হলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের ভ্রুক্ষেপ নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করাসহ জমে থাকা পানি অপসারণে। এই পরিস্থিতিতে এখানকার ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠেছে।’
পৌরশহরে ইজিবাইক (টমটম) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা অসংখ্য চালক বলেন, ‘বন্যার সময় তো কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল মহাসড়কের বক্স রোডে উভয় পাশের সড়ক। বন্যার পর বৃষ্টিপাতও অনেকটা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু এখনো কয়েকফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে দুই পাশের সড়ক। এতে ইজিবাইক চালাতে গিয়ে পানিতে ভিজে ব্যাটারীও নষ্ট হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন ইজিবাইক মালিকেরা।’
চকরিয়া পৌরসভার সচেতন একাধিক বাসিন্দা জানান–পৌরশহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে একেবারেই অপরিকল্পিতভাবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য যেসব ড্রেন তৈরি করা হয়েছে সেসব ড্রেন ময়লা–আবর্জনায় ভর্তি হয়ে রয়েছে। এমনকি পৌরশহরের ফুটপাতে ফলের দোকানসহ রকমারী পণ্যের ব্যবসার কারণে যত্রতত্র ফেলা ময়লা–আবর্জনা সরাসরি গিয়ে পড়ছে ড্রেনের ভেতর। এছাড়াও পৌরশহরের যত্রতত্র ময়লা–আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের থানা রাস্তার মাথা থেকে সরকারি হাসপাতালের অদূর পর্যন্ত এবং উত্তরপ্রান্তের আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্স, চকরিয়া শপিং কমপ্লেক্স এবং বাবুল শপিং ও সমবায় মার্কেটের সামনেও জলাবদ্ধতা এবং ময়লা–আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে পৌরশহর চিরিঙ্গা। এ ব্যাপারে চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, ভয়াবহ বন্যার পর পৌরসভার অনেক নিচু স্থান থেকেও পানি পুরোপুরি সরে যায়নি। তাই পৌরশহরের চিরিঙ্গার থানা রাস্তার মাথায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।











