চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বহদ্দারহাট জামে মসজিদ সংস্কারের নামে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎসহ সুনির্দিষ্ট চারটি অভিযোগ তদন্তে মাঠে নেমেছে দুদক। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নানা নথিপত্র চেয়ে বর্তমান মেয়র বরাবর একটি চিঠিও ইস্যু করা হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদ এ চিঠিটি ইস্যু করেন। এতে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরবরাহের কথা বলা হয়। দুদক কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট চারটি অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের জন্য অনুমোদন চেয়ে দুদক প্রধান কার্যালয়ে আবেদন করেছিলাম। এরই প্রেক্ষিতে অনুমোদন পাওয়ার পর আমরা সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছি। চসিকের কাছ থেকে নথিপত্র পাওয়ার পর প্রথমে সেগুলো আমরা যাচাই–বাছাই করব। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
দুদক কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ জানান, নগরীর বহদ্দারহাট জামে মসজিদ সংস্কারের নামে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, চসিকে নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগ ও বর্জ্য সংগ্রহের কাজে বেসরকারি কোম্পানি নিয়োগে অনিয়ম অভিযোগ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে চসিকের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়াদের নথি, ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগের নথি এবং বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার চুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চসিক থেকে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার আমলের শেষ দুই বছরে হওয়া নিয়োগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, নিয়োগ পরীক্ষার রেকর্ড, নিয়োগপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। সেই সাথে তার মেয়াদে হওয়া ২৫ উন্নয়ন প্রকল্পের বিবরণ, দরপত্রের যাবতীয় তথ্য, ঠিকাদারের তথ্য, চুক্তিমূল্য ও সেসব কাজের বর্তমান আবস্থাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রেজাউলের আমলে নগরীর চারটি ওয়ার্ডের বর্জ্য সংগ্রহের কাজে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির কর্মকর্তাদের তালিকা, প্রতিবেদন ও চুক্তিপত্রের নথি চেয়েছি আমরা। ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র হিসেবে শপথ নেন নগর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো রেজাউল করিম চৌধুরী। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী সরকারের পতন হলে একই বছরের ১৯ আগস্ট তাকে মেয়র পদ থেকে সরিয়ে দেয় সেসময়ের অর্ন্তবর্তী সরকার।













