সাত বছরে ৭ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন, মূল্য ৭৫ কোটি টাকা

কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র ৭.৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই | বৃহস্পতিবার , ৩০ জুলাই, ২০২৬ at ৫:২০ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কাপ্তাই প্রজেক্টে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিত্যক্ত ২২ একর জমিতে ২০১৯ সালে ৭.৪ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অধীনস্থ এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুতের পুরোটা জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হয়েছিল। ৭ কোটি ইউনিট সৌর বিদ্যুতের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। একবার প্রতিষ্ঠার পর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের পেছনে আর কোনো বড় অংকের টাকা খরচ করতে হয়নি; যে কারণে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কাপ্তাই প্রজেক্টে নতুন আরেকটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে পানি, তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত লোকবলেরও দরকার হয় না। এছাড়া একবার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর এর পেছনে বড় ধরনের কোনো আর্থিক বিনিয়োগও করতে হয় না। সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিশেষ কোনো সমস্যা বা যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দেয় না। এ কারণে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পকে লাভজনক মনে করা হয়।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ২২ একর জমিতে ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭.৪ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন যে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করেছিল সেটি ছিল একটি পরিত্যক্ত জায়গা। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অনুরূপ একটি পরিত্যক্ত জায়গায় আরেকটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা ব্রিকফিল্ডের জমিটিও বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। আমরা এই জায়গাটিকে গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগাতে আগ্রহী। ১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৭.৬ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ অচিরেই শুরু হবে বলে জানান তিনি।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি সূত্র জানায়, দেশে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎতের চাহিদা বাড়ছে। নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে তোলার পাশাপাশি বাণিজ্যিক এবং আবাসিক এলাকায় দিন দিন বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এখন অল্প সময়ে এবং স্বল্প খরচে নতুন নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। এজন্য সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পকে যথাযথ মনে করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাইকোর্টের
পরবর্তী নিবন্ধসাভার বিকেএসপি ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মহেশখালীর স্বর্ণজয়ী মার্শাল আর্টিস্ট নিহত