বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাণিটিকে নেওয়া হচ্ছে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে কুমিরকে দিঘি থেকে ধরা হয় বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন। পরে কুমিরকে গাড়িতে তুলে খুলনায় রওনা হয় বন বিভাগ। খবর বিডিনিউজের।
এর আগে সোমবার রাতে এ কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারায় আট বছর বয়সী ফাতেমা। শিশুটি দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল বা হাতমুখ ধুতে নেমেছিল, তখন কুমিরটি তার উপর আক্রমণ করে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে শিশুটির মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়। ভবিষ্যতে কেউ যেন তার মতো কুমিরের আক্রমণের শিকার হতে না পারে সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে জরুরি সভায় দিঘি থেকে প্রাণীটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
পরে বুধবার সকাল থেকেই বন বিভাগসহ প্রশাসনের লোকজন মাজার এলাকায় উপস্থিত হয়। এর মধ্যে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটি দেখা মেলে। তখন প্রাণিটিকে ধরার কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ১২টার দিকে খাবারের প্রলোভন দিয়ে কুমিরটিকে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রাণিটিকে দিঘি থেকে তুলে গাড়িতে ওঠানো হয়।
ইউএনও মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে অনুযায়ী মাজারের দিঘির কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী প্রাণিটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। কুমিরের বিষয়ের পরবর্তীতে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা পরে জানানো হবে, বলেন তিনি।
মাজার কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ, ফেরতের দাবি : কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ। অবিলম্বে কুমিরটি ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
তারা বলছে, কুমির থেকে সবাইকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে আটজন নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসন কুমিরটি তুলে নিয়ে যাওয়ায় তারা কাজটি ভাল করেনি। দর্শনার্থী দবিরুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, কুমির মাজারের একটি ঐতিহ্য। কুমির না থাকলে ঐতিহ্য থাকবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাল করে এখানে রাখা উচিত। অন্য দর্শনার্থীরা বলেন, মাজারে ঘুরতে এসে শুনি দীঘিতে কুমির নাই। তাই গোসল করতে নামলাম। ভয়হীনভাবে দীঘিতে গোসল করতে পেরে ভাল লাগল।
খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, মাজারের দীঘিতে সম্প্রতি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এজন্য আমরা ব্যথিত। এখানে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে প্রশাসন জরুরি সভা করে কুমিটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাজারের ইতিহাস সাড়ে পাঁচশ বছরের। মাজারে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কুমির। আমাদের ভুল ত্রুটি হতে পারে। তবে প্রশাসন যেভাবে কুমিরটি ধরে নিয়ে গেছে, তা আমরা চাইনি। প্রশাসন কাজটি ভাল করেনি। ধরে নিয়ে যাওয়া কুমিরটি অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান মাজারের প্রধান খাদেম।












