নগরীর সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতারা নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী জনসাধারণ’ এর ব্যানারে তার বিরুদ্ধে এই মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, টাকা দিলে দ্রুত জমি মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রির কাজ হয়, আর টাকা না দিলে বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে বছরের পর বছর। অনিয়মের অর্থে গড়েছেন সম্পদ। তার বিরুদ্ধে সম্পদের মামলা রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। এসব অভিযোগে অভিযুক্ত ওই কর্মচারীকে বদলির সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুঃখজনক। ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। গত ৭ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমানের সই করা এক অফিস আদেশে মো. মাহফুজুর রহমানকে চট্টগ্রাম নগেরর সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে মিরসরাই সাব-রেজিস্ট্রি দপ্তরে পদায়নের সুপারিশ চেয়ে ঢাকার মহাপরিদর্শক নিবন্ধন বাংলাদেশ বরাবরে সুপারিশ করেন। তবে এই সুপারিশের পরও এখনও সে বহাল তবিয়তে আছেন।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিজের স্ত্রীর নামে কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। মামলায় মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজকে প্রধান আসামি করা হয়। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। গত ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি জনৈক আবদুর রহিমের জাল-জালিয়াতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজ দপ্তরের দেওয়া শোকজের জবাবে মাহফুজুর রহমান লিখিতভাবে জানান, আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমার মরহুম পিতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের একজন রণাঙ্গনের সৈনিক ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পটিয়া উপজেলাস্থ কালারপুল নামক স্থানে আমার পিতা প্রথম স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা বানিয়ে এলাকার জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে উত্তোলন করেন। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজেকে বিএনপির পরিচয় দিয়ে আসছেন। দুদকের মামলা চলমান থাকা অবস্থায়ও তাকে চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন করা হয়।












