শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলে ও সংসদ সদস্য নামাল রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন। এনডিটিভি লিখেছে, তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে এয়ারবাসের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তি সংশ্লিষ্ট ৮ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
৪০ বছর বয়সি নামালকে দুই সপ্তাহের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি বা ঘুষের অভিযোগ তদন্তকারী কমিশন (সিআইএবিওসি) তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে। ২৩০ কোটি ডলারের এয়ারবাস চুক্তির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইএবিওসির ভাষ্য, চুক্তি নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাস শ্রীলঙ্কার রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের যে অর্থ দিয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ৮ লাখ ডলার গ্রহণ করেছিলেন নামাল। সংস্থাটি আদালতকে বলেছে, একজন শ্রীলঙ্কান ব্যবসায়ী দুটি সিঙ্গাপুরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নামালের কাছে ওই নগদ অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, নামালের আইনজীবী নিশান্ত দয়ানন্দ জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করেন। সিআইএবিওসি গত মে মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকেও ওই উড়োজাহাজ কেনাকাটায় অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার তৎকালীন নতুন সরকার চুক্তিটি বাতিল করে।
তবে রাজাপাকসে পরিবার তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মামলা দায়ের করা হচ্ছে। গত মার্চে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী কপিলা চন্দ্রসেনা তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে তিনি মাহিন্দা রাজাপাকসেকে তিন কিস্তিতে মোট ৬ কোটি রুপি (তৎকালীন সাড়ে চার লাখ ডলার সমপরিমাণ) পৌঁছে দিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, চাপের মুখে পড়ে তিনি ওই জবানবন্দি দিয়েছিলেন। মে মাসে পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক আগে চন্দ্রসেনাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ তদন্তে উঠে আসে, শ্রীলঙ্কায় ১০টি এয়ারবাস বিক্রির চুক্তি নিশ্চিত করতে অন্তত ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার ঘুষ দিতে রাজি হয়েছিল এয়ারবাস, যার মধ্যে ১৭ লাখ ডলার চন্দ্রসেনার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।












