নগরীর ইপিজেডে সাড়ে ৩ বছর আগে ৬ টুকরো করে ৪ বছর ১১ মাস বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত খুনের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ করেছে আদালত। আগামী ১৭ জুন চাঞ্চ্যল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
চট্টগ্রামের ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এ মামলার বিচার কাজ চলছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রাকিব দৈনিক আজাদীকে বলেন, গত শনিবার এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে। সেদিনই বিচারক এ রায় ঘোষণার জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেন। তিনি আরো বলেন, এ মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।আদালতসূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে নগরীর ইপিজেডের দক্ষিণ হালিশহর নয়ারহাট এলাকার তালিমুল কোরআন নুরানী মাদ্রাসার মাঠ থেকে নিখোঁজ হয় আয়াত। এ ঘটনায় ২৫ নভেম্বর আয়াতদেরই ভাড়াটিয়া আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবআিই)। আবির আলী আয়াতদের তিন তলা ভবনের নিচ তলায় বাবাসহ থাকতেন। তার মা ইপিজেডের আকমল আলী রোডের পকেটবাজার এলাকায় আলাদা বাসা নিয়ে থাকতেন। মূলত আয়াতের বাবা সোহেল রানার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করার উদ্দেশ্যেই আরবি পড়তে যাওয়া আয়াতকে মাদ্রাসা মাঠ থেকে কোলে নিয়ে সেদিন নিজেদের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন আবির। কিন্তু আয়াত খুব কান্নাকাটি করায় আর আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা ফোন ও সিম কার্ড কাজ করছিল না বলে আয়াতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আবির। একপর্যায়ে বড় দুটি ব্যাগে করে আয়াতের লাশসহ কম্বল মায়ের বাসায় নিয়ে গিয়ে বাথরুমের উপরের তাকে রেখে দেওয়া হয়। মা বোন এসবের কোন কিছু বুঝতে পারেননি। একটু পর আয়াত ফের বাবার বাসায় ফিরে যায়। তখন আয়াতকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। আবিরও তাকে খুঁজতে থাকে। পরে রাত ৯টার দিকে সে ফের পকেটবাজারে থাকা মায়ের বাসায় ফিরে যায়। যাওয়ার আগে পকেটবাজার এলাকার একটি দোকান থেকে এন্টিকাটার, পলিব্যাগ ও কচটেপ কেনে। বাসায় গিয়ে আবির তার মা ও বোনকে আয়াতের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি দেয়। এ খবর পেয়ে আবিরের মা ও বোন আয়াতদের বাসায় ছুটে যায়। এদিকে আয়াত বাথরুমের তাকের উপরে রাখা ব্যাগ নামিয়ে এবং সেখান থেকে আয়াতের লাশ বের করে এন্টিকাটার দিয়ে ৬ টুকরো করে এবং সেগুলো ছোট ছোট কয়েকটি ব্যাগে ভরে নেয়। বাসা ভালো করে পরিস্কার করে। এবং ব্যাগগুলো ফের বাথরুমের তাকের উপরে রেখে দেয়। রাতে মা ও বোন বাসায় ফিরলে একসাথে সবাই খাওয়া–ধাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকালে লাশের টুকরোর ব্যাগগুলো নিয়ে আবির ঘর থেকে বের হয়। ব্যাগগুলো সে আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে–টার্মিনাল ও আকমল আলী রোডের শেষ প্রান্তের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সাগরে ফেলে দেয়। আদালতসূত্র জানায়, এ ঘটনায় আয়াতের বাবার দায়ের করা মামলায় ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে। এতে আবিরের পাশাপাশি ১৭ বছরের অপর এক কিশোরকেও অভিযুক্ত করা হয়। এ কিশোরের বিচার আলাদাভাবে শিশু আদালতে চলছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে– আয়াতকে ৬ টুকরো করে হত্যার বিষয়টি আবির তাকে জানিয়েছিল। কিন্তু সে তা প্রকাশ করে নি। পিবিআই জানায়, ঘটনাস্থল মাঠে গিয়ে শিশুদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, আয়াতকে কোলে নিয়ে ছিল আবির। এ নিয়ে আবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানিয়েছিল, সে কোলে নিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আয়াতকে খুনের পর সে ২ টি ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু এরমধ্যে একটি ব্যাগ তার বাসায় পাওয়া গেলেও অপর ব্যাগটি পাওয়া যায়নি। এর ভিত্তিতেই ২৫ নভেম্বর আয়াতকে হেফাজতে নেয়া হয়। একপর্যায়ে আবির সবকিছু স্বীকার করে। আদালতে পাঠানো হলে সেখানেও ঘটনার দায় স্বীকার করে সে জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তখন থেকেই আবির চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছে।












