জোরে জোরে পড়লে বেশি মনে থাকে, নাকি মনে মনে? ছোটবেলায় বই খুলে পড়তে বসলে মা–বাবার কাছ থেকে আমরা প্রায়ই একটি কথা শুনতাম “জোরে জোরে পড়ো, তাহলে পড়া বেশি মনে থাকবে।” তখন হয়তো অনেকেই ভাবতাম, সত্যিই কি জোরে জোরে পড়লে পড়া বেশি মনে থাকে? নাকি চুপচাপ মনে মনে পড়লেই ভালোভাবে মনে রাখা যায়? আজকের শিশুদেরও এই প্রশ্নটি প্রায়ই মনে আসে। কেউ বই খুলে আস্তে আস্তে পড়ে, কেউ আবার মুখে শব্দ করে পড়ে। তাহলে চলুন, দেখা যাক সবাই কী বলে! পড়ার ধরন মানুষের অভ্যাস ও বিষয়ের ওপর নির্ভর করলেও শিশুদের ক্ষেত্রে জোরে পড়ে শোনার একটি বিশেষ সুবিধা আছে। যখন একটি শিশু জোরে জোরে পড়ে, তখন শুধু তার চোখই কাজ করে না। চোখে সে শব্দ দেখে, মুখ দিয়ে শব্দটি উচ্চারণ করে এবং কান দিয়ে নিজের কণ্ঠস্বর শুনতে পায়। অর্থাৎ চোখ, মুখ ও কান তিনটি একসঙ্গে কাজ করে। এতে পড়া বিষয়টি মনে রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য হতে পারে। বিশেষ করে নতুন শব্দ, কবিতা, ছড়া, গল্প কিংবা কঠিন কোনো বিষয় শেখার সময় জোরে পড়ে দেখা বেশ উপকারী। আরেকটি মজার বিষয় হলো জোরে পড়তে গেলে কোনো শব্দ ভুল উচ্চারণ করলে শিশুটি নিজেই তা শুনতে পায়। ফলে ভুলটি ঠিক করার সুযোগও তৈরি হয়। তাহলে কি মনে মনে পড়া ভালো নয়? অবশ্যই ভালো। মনে মনে পড়ারও অনেক সুবিধা রয়েছে। মনে মনে পড়লে দ্রুত পড়া যায়।
তাই গল্পের বই, বড় কোনো অধ্যায়, পত্রিকা কিংবা পরীক্ষার আগে পড়া ঝালিয়ে নেওয়ার সময় নীরবে পড়া বেশ সুবিধাজনক। তবে একটি সমস্যা হতে পারে মন অন্যদিকে চলে যাওয়া। বই সামনে খোলা, কিন্তু মন হয়তো জানালার বাইরে, খেলাধুলায় কিংবা মোবাইলের দিকে! তাই মনে মনে পড়ার সময় নিজেকে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করা দরকার আমি কী পড়লাম? গল্পে কী ঘটল? মূল কথাটি কী?
সবশেষে মনে রাখা দরকার শুধু মুখস্থ করার জন্য পড়া চলবে না, বুঝে বুঝে পড়তে হবে। কারণ পড়া যখন বোঝার সঙ্গে মিশে যায়, তখন সেই জ্ঞান অনেক দিন মনে থাকে। তাই মা–বাবা ছোটবেলায় যখন বলতেন “জোরে জোরে পড়ো, পড়া মনে থাকবে”, তখন কথাটির পেছনে সত্যিই একটি সুন্দর কারণ ছিল।












