নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লাভলেইন এলাকায় দিনে–দুপুরে পিকআপভর্তি অর্ধকোটি টাকার সিগারেট লুটের মামলার প্রধান আসামি মো. হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি কোতোয়ালী থানাধীন গোয়ালপাড়ার তুলাতলি বস্তি এলাকার বাসিন্দা। এসআরবি-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লাভলেইন এলাকা থেকে পিক-আপ ভর্তি মালামাল লুটের মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়। অভিযানে এসআরবি-৯ সহযোগিতা করে বলেও জানান তিনি।গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ব্যস্ততম লাভলেইন মোড়ে লুটের এই ঘটনা। ঘটনার পরদিন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন মো. হৃদয়, শুক্কুর, নয়ন, ফরহাদ, মো. শফি আলম, মো. আদি ও মো. আফসার।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে কাজীর দেউড়ির এসএ পরিবহন থেকে প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট বোঝাই করে একটি পিকআপ রিয়াজউদ্দিন বাজারের দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটিতে চালক আনোয়ার হোসেন ও হেলপার মো. জাহিদ ছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো–১১ পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে পৌঁছানো মাত্র কয়েকজন দুর্বৃত্ত পিকআপটির গতি রোধ করে। তারা প্রথমে চালকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালককে কিল–ঘুষি ও লাথি মারা হয়।
এমনকি হেলপার জাহিদ বাধা দিতে গেলে তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে তার নাকে মারাত্মক জখম হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পিকআপে থাকা ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট জোরপূর্বক অপর একটি গাড়িতে তুলে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। যাওয়ার সময় আসামিরা মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।
আজ দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকান্দার মিয়া দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমরা সরাইল থানা থেকে মো. হৃদয়কে চট্টগ্রামে নিয়ে আসতেছি। তাকে আদালতে উপস্থাপন করে লুটকৃত মালামাল বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হবে।আদালতসুত্র জানায়, হৃদয় ছাড়া মামলার অপর ৬ আসামি গত সোমবার ও এর আগের বিভিন্ন সময় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত তাদের উক্ত আবেদন মঞ্জুর করেন।











