রিপাবলিকান সেনেটরের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের তুমুল বাগবিতণ্ডা

| শুক্রবার , ২৬ জুন, ২০২৬ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের রিপাবলিকান দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিডিনিউজের।

এই বৈঠকের পরপরই যুদ্ধের খরচ মেটাতে কংগ্রেসের কাছে আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার দাবি করেছে তার প্রশাসন। রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার ওয়াশিংটনে এই উত্তপ্ত বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য জানান, সেনেটর বিল ক্যাসিডির সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র চেঁচামেচি ও বাগবিতণ্ডা হয়।

ক্যাসিডি বলেন, গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প যে রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, তা নিয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এই চুক্তিতে ইরানকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ক্যাসিডি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের যা জানানো হচ্ছে, মার্কিন জনগণের তার চেয়ে বেশি কিছু জানা দরকার। আমাদের যা বলা হয়েছিল, যুদ্ধ যেভাবে চলার কথা, পরিস্থিতি সেভাবে চলছে বলে মনে হচ্ছে না।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টায় রিপাবলিকান সেনেট নেতারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাব আটকে দিতে গভীর রাতে ভোটাভুটির আয়োজন করেন। মে মাসে পাস হওয়া যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত ওই প্রস্তাবটি ৫০৪৭ ভোটে আটকে দেয় সেনেট। ভোটের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, এই ভোট ইরানকে সতর্ক বার্তা দিল। তবে এই ভোট আগের সিদ্ধান্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ওপর বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোসের সামপ্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে আর মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন এই যুদ্ধের পেছনে হওয়া ব্যয় যুক্তিযুক্ত ছিল। এই উত্তপ্ত বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধের খরচ বাবদ অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি ডলার দাবি করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ৮৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সামরিক বাজেটকে আরও বাড়িয়ে দেবে। বুধবার রাতের ভোটাভুটিতে ক্যাসিডি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের পর মেলোনিকে আপ্যায়ন করতে যাচ্ছেন মাখোঁ