কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থানরত ১২ বছর বয়সী পথশিশু রায়হান (ছদ্মনাম) ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তার ডান পা কাটা হয়েছে–এ তথ্যের সঙ্গে চিকিৎসা–সংক্রান্ত নথিপত্রের মিল পাওয়া গেছে। তবে তাকে জোর করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতে পা কেটে দেওয়া এবং কিডনি অপসারণের যে তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তা সমর্থন করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় রায়হানের বিষয়ে এসব তথ্য জানান। খবর বাংলানিউজের।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত–আট মাস আগে পারিবারিক অভিমানের কারণে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানাধীন নিজ বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে আসে রায়হান। পরে সে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান শুরু করে। স্টেশনের শহরতলী প্ল্যাটফর্ম এলাকায় এলইইডিও এনজিও পরিচালিত পথশিশুদের স্কুলে নিয়মিত পড়াশোনা করত এবং সেখানে দুপুরের খাবার গ্রহণ করতো।
গত ১১ জুন ঢাকা থেকে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাওয়ার পথে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। দুর্ঘটনায় তার ডান পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের একটি টহল দল তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা তার অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বিষয়টি জানতে পেরে বিমানবন্দর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নির্দেশনায় রেলওয়ে পুলিশের সদস্য কনস্টেবল রিয়াজুল করিম হাসপাতালে উপস্থিত হন। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রায়হানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) পাঠানো হয়। ১১ জুন বিকেলে নিটোরের এঙট্রা–১৩ নম্বর বেডে তাকে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা নথিপত্র অনুযায়ী, নিটোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সিদ্ধান্তে গত ২ জুলাই রায়হানের দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ডান পা কাটা হয়। অর্থাৎ, পাওয়া নথিপত্রে পা কাটার ঘটনাটি ট্রেন দুর্ঘটনার পরের চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। পা কাটার আগে তাকে জোর করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে অঙ্গহানি করা হয়েছিল–এমন তথ্য এসব নথিতে পাওয়া যায়নি। রায়হানের একটি বা উভয় কিডনি অপসারণ করা হয়েছে–এমন তথ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে তার চিকিৎসা–সংক্রান্ত নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে রায়হানের উভয় কিডনি বিদ্যমান এবং স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার তথ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে পাওয়া চিকিৎসা নথির ভিত্তিতে রায়হানের কিডনি অপসারণের দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ মেলেনি।













