উসিলা কটেজ
কে ছিল রজনীসুপ্তা জিগাইয়ো না, বন্ধুসকল
তারে আমি দেখি নাই, একখানা চিঠি শুধু তার
দেখেছি বন্ধুর হাতে–সেই চিঠি অশ্রু–টলোমল
সে ছিল কাপ্তাইকন্যা, না কি ভাইবইনছড়ার
আমিও জিগাই নাই। তিনজন আমরা ছিলাম
উসিলা কটেজে–নর্থ ক্যাম্পাসের বিলের ওপার
আমরা ঘুমাইতাম ব্যাঙের দাঁদরা শুনে শুনে, আর
বিলের পুকুরে ডুব দিয়ে দিয়ে চাবি খুঁজতাম
চল্লিশোর্ধ্বা এক নারী, রূপবতী, ঢুকে পড়তেন
গরু নিয়ে, কটেজেই। গরুটি ঘাসের উসিলায়
দেখত আমার মুখ–দুনিয়ার বেকুবেরা এক
যেমন রজনীসুপ্তা, তারে না দেখেই বেঠোভেন
হয়ে যেত মন! বন্ধু, আজও কি এমন জোছনায়
কাঁদো? না কি এই সুপ্তা রজনির তুমিই আশেক?
কোটবাড়ি
আমার নস্টালজিয়ার নাম কোটবাড়ি
টমটম থেকে কতবার নেমেছি নির্জন রাস্তায়
রাত দশটায়, এগারোটায়। কখনও মনে হয় নাই
নিমগাছের আড়ালে ওত পেতে আছে খুনি
কোটবাড়ি বিশ্বরোডে থামত মাইক্রোবাস
ওভারব্রিজ পেরিয়ে ওপারে দাঁড়াতাম ধীরে
ট্যাক্সির আশায়, ফ্ল্যাক্সি লোডের দোকানের পাশে
পথে কত নিঝুম ঘরবাড়ি, মরিচমশলার দোকান
ট্যাক্সি থামত কোটবাড়ি বাজারের খানিকটা আগে
ভার্সিটির রাস্তার মুখে। উঠতাম টমটমে
বুকপকেটে ঠিকানা–লেখা চিরকুট। মনে হয় নাই
শীতের রাতে ওত পেতে আছে খুনি, টমটমের আড়ালে
অপরূপ এক বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতাম
রাত দশটায়, এগারোটায়। কলাপসিবল গ্রিলের তালা
গ’লে গ’লে পড়ত নেফারতিতির ছোঁয়ায়
দালির ঘড়ির মতো। সিঁড়ি যেন আমারই কম্পমান হৃদয়
আমরা হাঁটতাম বৌদ্ধবিহারের নির্বাক রোদ্দুরে
শ্যাওলা–জমা স্তব্ধতার গন্ধের ভিতর
সুজাতার পায়ের শব্দ কি শুনতাম কান পেতে?
মনে হয় নাই স্তূপের আড়ালে ওত পেতে আছে খুনি
আমরা হাঁটতাম শেষ বিকেলের ক্যাম্পাসে
ঘাসফড়িঙের মতো। ছেলেমেয়েদের রিহার্সাল দেখে
ফিরতাম সন্ধ্যায়, টমটমে। একবারও মনে হয় নাই
শালবনের আড়ালে ওত পেতে আছে খুনি











