দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার রাত পৌনে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সরকারপ্রধানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের বিশেষ ফ্লাইট। বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তার সহধর্মিণী হানানি হারুন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সুসজ্জিত বাহিনীর গার্ড অব অনারের সময়ে দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। পরে সরকারপ্রধানকে বিমানবন্দর থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের সাংরি–লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা থাকবেন। প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় আসা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাংরি–লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। এদিকে এক মতবিনিময় সভায় নিজেদের দাবি নয়, দেশের জন্য চিন্তা করতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বিডিনিউজের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় এটা তার প্রথম সফর। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ২৩ জন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর তারেক রহমানের সরকার গঠনের পরপরই তাকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সেই আমন্ত্রণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরে এলেন। তারেক রহমানকে আজ সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পুত্রাজায়ায় তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেবেন। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং এর পরপর উভয় দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। পরে দুই সরকারপ্রধান যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন। এ সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিজেদের দাবি নয়, দেশের জন্য চিন্তা করুন : প্রবাসীদের নিজেদের দাবি–দাওয়া বাদ দিয়ে দেশের জন্য কী করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মালয়েশিয়ার কুয়ালা লামপুরে সাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আজকে আমাদের কী দাবি আছে, সেটা থেকে বেরিয়ে আসুন। আমরা চিন্তা করি, আমাদের কী কর্তব্য আছে দেশের প্রতি। হোয়াট উই ক্যান ডু ফর কান্ট্রি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রিয় প্রবাসী ভাই–বোনেরা, আপনাদের সকলের কাছে দেশবাসীর পক্ষ থেকে একটি কথা রাখব, আসুন আজকে থেকে আমরা চিন্তা করি, আমরা কী করতে পারি দেশের জন্য? এটাই হোক আমাদের আজকের চিন্তা।
তার আগে তারেক রহমান গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের কী অবস্থা হয়েছিল, তা তুলে ধরেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে। তিনি বলেন, দেখুন দেশ থেকে কেউ একজন, একটি গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে আজকে, দেশটাকে একদম ধবংস করে দিয়েছে। কিছু করার ছিল না, আমরা চেষ্টা করেছি, বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন আসুন আমরা সকলে মিলে দেশের জন্য কী করতে পারি, এটিতে আমরা থাকি।
দেশ গঠনে নিজের চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলো প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন তারেক রহমান। বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, আমি আমার চিন্তার কথাগুলো আপনাদেরকে বলেছি। আপনারা যদি মনে করেন যে এইভাবে আমরা এগোতে পারব দেশকে নিয়ে, যারা বিশ্বাস করবেন কথাগুলো, দোয়া করবেন যাতে এগুলো বাস্তবায়ন আমরা করতে পারি।










