মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে আইনের প্রয়োগ করতে হবে

| মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ

মাদকের বিরুদ্ধে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনির অনেকে প্রায়শ হামলার শিকার হচ্ছেন। গত ২৬ জুলাই দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, নগরীর আমবাগানে মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে তার সহযোগীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এক এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে আমবাগান রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্য হলেন ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মবিনুল ইসলাম। তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। এ সময় ওই এসআইয়ের সাথে থাকা ১০ রাউন্ড গুলিসহ একটি নাইন এমএম পিস্তল দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অভিযানে থাকা এক পুলিশ সদস্য। তবে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা নিশ্চিত করলেও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গণমাধ্যম সেল অস্ত্র ও গুলি লুটের বিষয়টি স্বীকার করেনি। পুলিশ সূত্র জানায়, আমবাগানসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল আলমগীর নামের একজন। তাকে ধরতে ডবলমুরিং থানার এসআই মবিনুল ইসলামসহ একটি টিম অভিযান চালান। অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন টিমের সদস্যরা। কিন্তু হঠাৎ তার সহযোগীরা পুলিশের উপর হামলা করে। এ সময় এসআই মবিনুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলায় অপর একজন পুলিশ সদস্য মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তবে আলমগীরকে পালাতে দেননি অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্যরা। তাকে থানায় নেওয়া হয়েছে। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক আজাদীকে বলেন, অভিযানে গিয়ে আহত এসআই মবিনুল ইসলামের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার শরীরের ১০১৫ স্থানে ছুরিকাঘাত করা রয়েছে। তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এদিকে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজাদীকে জানান, হামলার সময় আহত এসআইয়ের সাথে থাকা নাইন এমএম পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি খোয়া যায়। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে আমবাগানসহ আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শহর থেকে গ্রামাঞ্চলসর্বত্রই এখন হাতের নাগালে পাওয়া যায় এসব। বিগত বছরগুলোয় এর বিস্তার ঘটেছে আশঙ্কাজনকভাবে। তাঁরা বলেন, প্রকৃত চিত্রটি আসলে ভয়াবহ। মাদক পাচারের বেশিরভাগ ঘটনাই উদ্ঘাটিত হয় না; যে পরিমাণ মাদক ধরা পড়ে, তা খুবই সামান্য। মাদকাসক্তি বাংলাদেশে অন্যতম একটি জাতীয় সমস্যার নাম। নেশাকে সংজ্ঞায়িত করতে হলে বলতে হয় এমন কিছু দ্রব্য, ঔষধ কিংবা উত্তেজক ঔষধ, উপাদান যা ব্যবহারে একধরনের মানসিক প্রশান্তি, কল্পনা ও বাস্তবের মাঝামাঝি বিচরণ, স্নায়ু বৈকল্যের কারণে দেহে তীব্র সুখানুভূতি, হেলুসিনেশন, মতিভ্রম হতে পারে যা খুব সাময়িক। মূলত এই ঘোর লাগাটা বেশিদিন থাকে না। মাদকের বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মানব দেহের উপর স্থায়ী এবং ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে এর উপর নির্ভরতা সৃষ্টি করে। নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তারে সেবনকারীর আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থা রোধ করা না গেলে একটি প্রজন্মের চিন্তার জগতে সৃষ্টি হবে বন্ধ্যাত্ব। দীর্ঘমেয়াদে এর ফল কতটা ভয়াবহ হবে, তা সহজেই অনুমেয়। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের ফলে সামাজিকভাবে যেমন অস্থিরতা, অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে ঠিক তেমনি মাদকাসক্তরা আমাদের এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকদের উদ্বেগউৎকণ্ঠা ক্রমশ ঘৃণায় রূপান্তরিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে মাদকাসক্তরা নিক্ষিপ্ত হচ্ছে অন্ধকার গলিতে। মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও মূল্যবোধের শূন্যতা নানাবিধ কারণে ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদক যেভাবে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, তাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এর কারণ খুঁজে বের করে তা দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মাদক পেলে মাদকসেবীর শাস্তি হতে পারে। তবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সচেতন মানুষ আশা করছে, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে হলে অর্থ পাচার আইনে মামলার কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় রাজনৈতিক প্রভাবে গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে