বাঁশখালী উপজেলায় মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে পৃথক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর ৩৬(৫) ধারায় সাজা দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন। অভিযানে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মুলকিরচর এলাকায়। রাত ৯টার দিকে মো. শহীদুল্লাহ্ (১৯) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও মাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়।
পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ নূরী ও গ্রাম পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় অভিযুক্তের মা উপস্থিত হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাদকের টাকা জোগাড় করতে তার ছেলে নিয়মিত মোবাইল ফোন চুরি করত। এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মোবাইল চুরির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও ভাঙচুর করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে ওই মা প্রশাসনের কাছে নিজের ছেলের শাস্তি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ছেলের মাদকাসক্তি ও বেপরোয়া আচরণের কারণে পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। উপস্থিত সাক্ষ্যপ্রমাণ, স্থানীয়দের বক্তব্য ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মো. শহীদুল্লাহকে ৯ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অভিযানের প্রথম ঘটনায় সন্ধ্যায় উপজেলার পালেগ্রাম এলাকা থেকে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় মদ্যপ অবস্থায় মো. মাঈনুদ্দীন (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি কাথরিয়া এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় কাভার্ড ভ্যানচালক। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপানে আসক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে জনশান্তি বিঘ্নিত করার দায়ে তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।











