ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে মীর হেলাল

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৮ নভেম্বর, ২০২৬ at ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ

‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’; এই জাতীয় চেতনাকে ধারণ করেই দেশ গঠনে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য থেকে আমাদের এই শিক্ষা নিতে হবে– দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকলে একটি দেশের সংকট উত্তরণ সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। তাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে যথাযথভাবে জানাতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দেশের মানুষের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের চিন্তা, পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশের স্বার্থ।

তিনি গতকাল শনিবার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

আলোচনা সভার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। মীর হেলাল বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এই দিনেই সিপাহী জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার যাত্রাও এই দিনের ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে সূচিত হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অসীম সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন। নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর দেশ যখন নানা রাজনৈতিক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন একটি সশস্ত্র চক্রান্তের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আটক করা হয়। দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সিপাহী–জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে মুক্ত করেন এবং দেশের দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ করে দেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সভা