পরিবহন ধর্মঘটের ধকল সামলাতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের বড় মূল্য দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। কয়েক হাজার কন্টেনার পণ্য আটকা পড়েছে। কন্টেনার না নিয়েই বন্দর থেকে জাহাজ ছেড়ে গেছে। এসব কন্টেনার সময়মতো সিঙ্গাপুর, কলম্বো কিংবা পেনাং পোর্টে পৌঁছানোর উপর এসব ব্যবসায়ীর ভাগ্য নির্ভর করছে। কন্টেনারগুলো যদি ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে গিয়ে মাদার ভ্যাসেল ধরতে না পারে তাহলে সময়মতো বাজারে পৌঁছবে না। ইউরোপ-আমেরিকায় বড় দিনের কেনাকাটার এসব পণ্য সময়মতো পৌঁছানোটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, করোনাকাল দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের বড় ক্ষতি করেছে। আমরা সেই ক্ষতি কাটিয়ে মোটামুটি ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। বড়দিন এবং নিউ ইয়ার মিলে অর্ডারও বেশ ভালো ছিল। কিন্তু গত চার দিনে আমাদের কয়েক হাজার কন্টেনার পণ্য আটকা পড়েছে।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৩৫.১৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী (অক্টোবর ২১) ১২.৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪১.৬৬ শতাংশ, অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি ৫৩.২৮ শতাংশ। চমৎকার একটি সময় পার করছিলাম। কিন্তু আচমকা ধর্মঘটের কারণে আমাদেরকে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। আমরা বিপুল সংখ্যক রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেনার পাঠাতে পারিনি, আবার প্রায় সমপরিমাণ কাঁচামাল বোঝাই কন্টেনার বন্দর থেকে খালাস করতে পারিনি। এতে আমাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমাদেরকে বাড়তি খরচ করে এয়ারশিপমেন্ট করে বাজার ধরতে হবে। আবার ক্রেতারা ডিসকাউন্টও আদায় করতে পারে। সবকিছু মিলে চার দিনের পরিবহন ধর্মঘট তৈরি পোশাক খাতের অনেক বড় ক্ষতি করল।
নভেম্বর মাসে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি কম হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার স্বার্থে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম-সংশ্লিষ্ট সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয় সেবা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দর, কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট পরিবহন সেক্টরসহ বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক ধর্মঘটের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে কঠোর সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থেই নেয়া প্রয়োজন।












