ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলায় গতবারের পুনরাবৃত্তি হলো এবারও। এবার ১১৭তম আসরের ফাইনালেও মুখোমুখি হলেন গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট কুমিল্লার বাঘা শরীফ বলী এবং রাশেদ বলী। চ্যাম্পিয়ন হলেন আগের মতোই বাঘা শরীফ। বলীখেলার এবারের আসরে ১২তম বারের মতো টাইটেল স্পন্সর ছিল বাংলালিংক।
ফাইনালের শুরুতে দুই বলীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন দুই জন। রাশেদ বলী দীর্ঘক্ষণ ঠেকিয়ে রেখেছিলেন বাঘা শরীফকে। কিন্তু শেষমেষ নতি স্বীকার করতে হয় তাকে। খেলার ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের মাথায় রাশেদকে পরাজিত করে জয়ী হন বাঘা শরীফ। এ নিয়ে জব্বারের বলীখেলায় বাঘা শরীফ বলী তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা অর্জন করলেন। গত দুই আসর ধরে সেরার মুকুট পড়েছিলেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ।
গতকাল শনিবার বিকেলে লালদীঘি মাঠে স্থাপিত মঞ্চে বলীরা খেলায় অংশ নিতে আসেন। এবার ৮৭ জন বলী নাম এন্ট্রি করেন। তবে আগের বলীসহ শতাধিক বলী ছিলেন প্রতিযোগিতার মূল মঞ্চে। গতবারের চার সেমিফাইনালিস্ট বলী বাঘা শরীফ, রাশেদ, কামাল এবং শাহজালাল ছাড়া বাকিরা প্রাথমিক রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেন। ঐ চার বলী সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে খেলা শুরু করেন। প্রাথমিক পর্বের প্রতিযোগিতা থেকে নতুন চার বলীকে বাছাই করা হয়। এরা হলেন বাগেরহাটের মো. মামুন, নুরুল ইসলাম, আনসার ব্যাটেলিয়ানের টারজান দিপু এবং সেনাবাহিনীর মিঠু বলী। তারা গতবারের চার সেমিফাইনালিস্টের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হন। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে বাঘা শরীফ এবং টারজান দিপুর সাথে দীর্ঘক্ষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে। কেউ কাউকে পরাস্ত করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ বাঘা শরীফের কাছে হার মানে টারজান দিপু। গতবারের রানার্স বাপ রাশেদ বলী সহজে মামুন বলীকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেন। কামাল এবং মিঠু বলীর কোয়ার্টার ফাইনালে মিঠু জিতে সেমিতে যান। গতবারের সেমিফাইনালিস্ট শাহজালাল এবং নুরুল ইসলামের মধ্যকার খেলায় শাহজালাল জয়লাভ করে আবারো সেমিতে পৌঁছান।
প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হন মিঠু ও রাশেদ বলী। এ খেলায় মিঠুকে হারিয়ে রাশেদ ফাইনালে যান। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হন বাঘা শরীফ ও শাহজালাল। যদিও সমঝোতার ভিত্তিতে বাঘা শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে ফাইনালে মুখোমুখি হন গতবারের দুই ফাইনালিস্ট বাঘা শরীফ ও রাশেদ। এ নিয়ে টানা তিন আসরে ফাইনালে মুখোমুখী হন তারা। ৩য় ও ৪র্থ স্থান নির্ধারনী খেলায় কুমিল্লার শাহজালাল এবং সেনাবাহিনীর মিঠু বলী অংশ নেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে এই দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। পরে মিঠু পরাজিত করেন গতবারের সেমিফাইনাল খেলা শাহজালালকে। মিঠু তৃতীয় এবং শাহজালাল চতুর্থ স্থান অধিকার করেন।
গতকাল খেলা শুরুর আগেই লালদীঘি মাঠে উপচে পড়া দর্শকের ভিড় লেগে যায়। বৈশাখের তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে মাঠের চারপাশ, এমনকি আশপাশের সড়কেও মানুষের ঢল নামে। খেলা শুরুর আগে থেকেই নগর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শক মাঠে ভিড় করেন। অনেকে দাঁড়িয়ে, কেউ আবার আশপাশের উঁচু স্থান থেকে খেলা উপভোগ করেন। খেলা পরিচালনা করেন মো. হাফিজুর রহমান। তাকে সহায়তা করেন আলী আহসান রাজু এবং মো. জাহাঙ্গীর।
এর আগে এবারের আসর উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। প্রতিযোগিতা শেষে তিনি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।
এদিকে বলীখেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি মাঠ সংলগ্ন এলাকায় বসা বৈশাখী মেলাতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই বিভিন্ন পণ্যের দোকান, খাবারের স্টল ও বিনোদনের আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। রাত পর্যন্ত চলতে থাকে হাজার হাজার মানুষের বিকিকিনি।














