বর্ষবরণে প্রাণের উচ্ছ্বাস

নগরীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে নগরবাসী। এদিন উৎসবের রঙ লাগে নগরজুড়ে। নতুন বঙ্গাব্দকে বরণে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রখর রোদ ও গরমের তীব্রতা উপেক্ষা করে এসব আয়োজনে প্রাণের সম্মিলন ঘটে। সকাল থেকে সন্ধ্যা নানা বয়সী লোকজনের পদচারণায় মুখরিত ছিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানস্থল। বিদায়ী বছরের দৈন্যতা, গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে নতুনভাবে সাজিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া লোকজন। বর্ষবরণে নগরে সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল ডিসি হিলে। এছাড়া সিআরবি শিরীষতলা, শিল্পকলা একাডেমি, জুলাই স্মৃতি উদ্যান (জাতিসংঘ পার্ক), জেএম সেন হল প্রাঙ্গণ, এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন জায়গায় দিনভর ছিল নানা আয়োজন। এখানে গান, কবিতা পাঠ, কথামালা, নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে ভিড় করেন নানা শ্রেণি পেশার লোক।

সিআরবি শিরীষতলা : সিআরবি শিরীষতলায় সকাল সাড়ে ৭টায় ভায়োলিনিস্ট চট্টগ্রামের বেহালা বাদনের মধ্য দিয়ে সিআরবিতে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। নববর্ষ উদযাপন পরিষদের আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ আয়োজনে ৬১টি সংগঠন গান, নাচ, আবৃত্তি, নৃত্যালেখ্য, গীতিআলেখ্যসহ আরও নানা পরিবেশনা নিয়ে অংশ নেন। জাসাস, বাংলাদেশ রেলওয়ে সাংস্কৃতিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা সম্মিলিত গান পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল’র রিপসা কমিটি চট্টগ্রাম জোন : নগরীর ন্যাশনাল মেরিটাইমস ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ চট্টগ্রাম রোটারি রিপসা টিমের উদ্যোগে দিনব্যাপী রোটারি বাংলা বর্ষবরণ গত ১৪ এপ্রিল উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান রোটারিয়ান মিনহাজ উদ্দিন নাহিয়ান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, রিপসা কোঅর্ডিনেটর রোটা. আজিজুল হক, রোটা. মনিরুজ্জামান, রোটা. আবু তৈয়ব, রোটা. এমদাদুল আজিজ, ডেপুটি কোর্ডিনেটর ও নববর্ষ উদযাপন কমিটির কোর্ডিনেটর রোটা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নান্টু, ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর রিপসা রোটা. ইব্রাহিম হাসান, মেম্বার সেক্রেটারি রোটা. ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কোর্ডিনেটর মো. আরশাদ চৌধুরী, রোটা. অ্যাডভোকেট সওকত আউয়াল চৌধুরী, রোটা. অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্ডিনেটর এস এম জমির উদ্দিন, উত্তম কুমার ব্যানার্জি, রোটা. অ্যাডভোকেট সাহাদাত হোসেন, রোটা. মো. নাঈম উদ্দিন, রেজিস্ট্রেশন চেয়ার রোটা. কাজী হাসানুজ্জামান সান্টু, রেজিস্ট্রেশন কোচেয়ার রোটা. আসরাফু আলম। প্রেসিডেন্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রোটা. সৈয়দা কামরুন নাহার, রোটা. তাহিয়া কবির, রোটা. আফিয়া খাতুন মীরা, রোটা. রোকসানা ফারুক, রোটা. সাবিনা কাইয়ুম, রোটা. রওশন আক্তার, রোটা. কাজী হাসানুজ্জামান সান্টু, রোটা. মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, রোটা. আনারুল কবির চৌধুরী, রোটা. আনিসুর রহমান, রোটা. খন্দকার মো. এমদাদুর রহমান, রোটা. এম এ মতিন, রোটা. শহিদুল ইসলাম, রোটা. আবু বকর সিদ্দিক, রোটা. আশরাফুল আলম, রোটা. আব্দুল্লাহ মিলন, রোটা. শ্যামল কান্তি মজুমদার, রোটা. মো. আলী মিয়া। অনুষ্ঠানে ২৯ টি রোটারি ক্লাবের সিনিয়র রোটারিয়ান, প্রেসিডেন্টবৃন্দ এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে চট্টলাকুঁড়ি শিল্পীদের পরিবেশনায় উদ্বোধনী নৃত্যের পর আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় নাচ, গান, আবৃত্তি, বাঙালি ফ্যাশন শো, রোটারি পরিবারের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সকল রোটারিয়ান ও পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সকালে ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলি, বাঙালিয়ানায় পান্থাইলিশ নান রকম ভর্তায় সবাই মধ্যাহ্য ভোজ ও বিকালে জিলাপি, চটপটি, চা কফি আয়োজন ছিল। শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব : চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। এ উপলক্ষে গত ১৪ এপ্রিল দিনব্যাপী প্রেস ক্লাবে গান, নৃত্য, আড্ডা, কবিতা আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পহেলা বৈশাখের চিরায়ত মাটির সানকিতে পান্তা ভাতের সাথে মাছ ফ্রাই, শুঁটকি, টমেটো, কাচা মরিচভর্তাসহ হরেক রকমের বৈচিত্র্যময় আয়োজন।

দুপুরে ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি। বক্তব্য দেন কবি স্বপন দত্ত, সাংবাদিক আবদুল ওয়াজেদ, সিএমইউজের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সাংবাদিক মজুমদার নাজিম, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক মো. রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, টিসিজেএ সভাপতি এনামুল হক, সমাজসেবা ও অ্যাপায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন ক্লাবের সদস্য কামাল পারভেজ। সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন ফরিদ বঙ্গবাসী, এস বি সুমি, মাকসুদা বৃষ্টি, জুয়েল পাল এবং নৃত্য পরিবেশন করেন রোমিতা ভৌমিক, জবা ভট্টাচার্য্য, চিত্রা নন্দী, অমিত দে, তমা চৌধুরী ও সঞ্চিতা সেন। শেষে ক্লাবের সদস্য মাহবুব মাওলা রিপনের সম্পাদনায় মাসিক শিক্ষাঙ্গন পত্রিকার ৩৩ তম বর্ষপূর্তি সংখ্য উদ্বোধন করা হয়।

বোধন : নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করে বোধন আবৃত্তি পরিষদ। প্রথমবারের মতো গত ১৪ এপ্রিল নিজস্ব উদ্যোগে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করে। মোহিনী সংগীতা সিংহের রচনা ও রীমা দাশের নির্দেশনায় ‘প্রকৃতি কোলে কাঁখে, এই বৈশাখে’ কবিতার বৃন্দ আবৃত্তি দিয়ে সকালের অধিবেশন শুরু হয়। এরপর নৃত্য, সঙ্গীত, একক আবৃত্তি ও বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। নৃত্য পরিবেশন করেত্রিভঙ্গ নিকেতন, পদ্ম নৃত্যালয়, নৃত্যম, আলাউদ্দিন ললিতকলা কেন্দ্র, চারুতা, নৃত্যময়ী, নৃত্য নিকেতন, ঘুঙুর, জাকির তমাল নৃত্যভূমি, সঞ্চারী, নটরাজ, দ্যা একাডেমি অফ ক্ল্যাসিক্যাল অ্যান্ড ফোক ডান্স, অদ্বিতীয়া, সুরাঙ্গন। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনা করেসঙ্গীত ভবন, নজরুল সংগীতশিল্পী সংস্থা, উদীচী, স্বপ্নতরী, শ্রুতিনন্দন। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, উচ্চারক, একক সঙ্গীত পরিবেশনা করেনমানস পাল চৌধুরী, শর্মিষ্ঠা দেব, দেবলীনা চৌধুরী, সেঁজুতি দে, জয়িতা বিশ্বাস, সৈয়দ রাসতিন রেজাউল, প্রিয়া ভৌমিক, দ্বৈত সঙ্গীত পরিবেশন করেনরুবেল চৌধুরী, আনিকা দাশগুপ্তা। যাদু পরিবেশন করেনরাজবীর সব্যসাচী আকাশ। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন জাভেদ হোসেন ও প্রণব চৌধুরী। এছাড়াও বোধন সদস্যদের অংশগ্রহণে কুমার প্রীতীশ বল ও নাজমা নিগার গ্রন্থিত পারভেজ চৌধুরী ও প্রশান্ত চক্রবর্তী নির্দেশিত মৈমনসিংহ গীতিকার পালা ‘কাজলরেখা’ পরিবেশিত হয়। সন্দীপন সেন একার গ্রন্থনায় সন্দীপন সেন একা, স্মরণ ধরের নির্দেশনায় বৃন্দ প্রযোজনা : শিশুর ভাবনায় পৃথিবী পরিবেশন করে বোধনের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

উদীচী : নন্দনকানন এলাকায় উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ নগরীর নন্দনকানন এলাকায় দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলো-ফিডে উৎপাদন, ডেথস্টক ব্যবহার শুরু
পরবর্তী নিবন্ধমাথা ও কব্জি বিচ্ছিন্ন করে স্ত্রীকে ভাসিয়ে দিল নদীতে