ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া বিশাল দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীদের লড়াই দ্বিতীয় দিনে পদার্পণ করেছে। কর্মকর্তারা আগুনকে মারাত্মক এবং ব্যতিক্রমী মাত্রার বলে বর্ণনা করেছেন, যার কারণে দেশের প্রধান উত্তর–দক্ষিণ মহাসড়ক আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। প্যারিস থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ–পূর্বে অবস্থিত ফনতেনব্লো বনের ৮০০ হেক্টর এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লঁহো নুনিজ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে। খবর বিডিনিউজের।
সোমবার মন্ত্রী জানান, ফনতেনব্লো আগুনের ঘটনায় দুই জনকে এবং দেশজুড়ে দাবানলের ঘটনায় মোট ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার পর প্যারিস এ বছর তৃতীয় তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্সের দমকলকর্মীদের জাতীয় ফেডারেশনের এরিক ব্রোকার্ডি জানিয়েছেন, সাধারণত শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ার জন্য পরিচিত দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্যারিস অঞ্চলে আগুন নেভানোর জন্য বিমান পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম। আগুন নেভাতে দুটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার এবং একটি পর্যবেক্ষণ বিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। ব্রোকার্ডি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হল মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনিজ সোমবার জানান যে, কর্তৃপক্ষ আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ১,০০০ মিটার পরিধির মধ্যে প্রায় ১০টি স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, যা ইঙ্গিত করে যে এটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে। ফ্রান্স ২–এর রাত ৮টার সংবাদে নুনিজ বলেন, ওই অঞ্চলে ইচ্ছাকৃত বা দুর্ঘটনাবশত অগ্নিসংযোগের সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ জানান, ফনতেনব্লো বনটি নজিরবিহীন এক দাবানলের কবলে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে থাকার আশ্বাস ও দমকলকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে সরকারের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও সরঞ্জাম কাজে লাগানো হচ্ছে। দাবানল ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্যারিসের একটি মহাসড়ক অবরুদ্ধ এবং দক্ষিণমুখী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রেলযাত্রীদের সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছর দেশটিতে ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে।











