নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। অপরদিকে পুরনো কালুরঘাট সেতুকে সংস্কার করে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালানোর জন্য বুয়েটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা এখনো কাজ শুরু করেনি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি এখন প্রায় জরাজীর্ণ অবস্থায়। প্রতিদিন শত শত যানবাহনে হাজারো যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছে। একমুখী সেতু হওয়ায় এ পাড় থেকে অপর পাড়ে যেতে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের আটকে থাকতে হয়। এমতাবস্থায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সেতু পারাপারে উভয় পাড়ের যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগের কথাটি বিবেচনা করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অবশেষে কালুরঘাট সেতুর যানজট নিরসনে কর্ণফুলী নদীতে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ফেরি আনার উদ্যোগের পাশাপাশি উভয় পাড়ে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণসহ টেন্ডারে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
এই ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা আজাদীকে জানান, আমরা এপ্রোচ সড়ক নির্মাণসহ ফেরি সার্ভিস চালুর প্রাক্কলন তৈরি করছি। এরপর ফেরি আনতে হবে। টেন্ডার করব। আমরা ১/২ মাসের মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালু করব।
উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কালুরঘাট সেতুর যানজট নিরসনে নদীতে ফেরি চালুর জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ফেরির সংশ্লিষ্ট স্থান সমূহ পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী।
এদিকে কালুরঘাট সেতুর ফোকাল পারসন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. গোলাম মোস্তফা জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন নকশায় কালুরঘাট সেতু তৈরিতে সম্মতি দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। নতুন নকশা চূড়ান্ত হওয়ায় এখন প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তৈরি করা হবে। তারপর কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) সাথে লোন এগ্রিমেন্ট হবে। এরপর একনেকে উঠবে। একনেকে অনুমোদনের পর আমরা টেন্ডারে চলে যাব। ঠিকাদার নিয়োগ হবে। পরামর্শক নিয়োগ হবে। এসব আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করতে ২০২৩ সাল চলে যাবে।
পুরনো কালুরঘাট সেতুকে সংস্কার করে কঙবাজার রুটে ট্রেন চালানোর জন্য বুয়েটকে পরার্মশক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের আগে সেতু মেরামতের কাজ শেষ হবে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আমরা কালুরঘাট সেতু দিয়ে কঙবাজার রুটে ট্রেন চালায় দেব। প্রথম দিকে বেশি না হলেও প্রতিদিন একটি ট্রেন চলাচল করবে। সেতুটি মেরামতের পর ছোট মিটারগেজ ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চালানো যাবে।













