বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের একটি লিচু বাগান থেকে রাঙ্গুনিয়ার মো. ওমর ফারুক হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পিতা মো. ওসমান বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। গত রোববার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার জঙ্গল সরফভাটা এলাকা থেকে লিয়াকত আলী (৩৫) নামে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালখালী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত লিয়াকত ওই এলাকার মাতব্বর বাড়ির শামসুল আলমের ছেলে।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত লিয়াকত আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এই ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মোবাইলের স্ক্রিনে থাকা ছেলের ছবির দিকে তাকিয়ে আর বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন মা গুলতাজ বেগম। তার চোখের জলে ভিজে যাচ্ছিল চেনা আঙিনা। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকার ওমান প্রবাসী মো. ওমর ফারুকের (২৫) এমন নির্মম মৃত্যুতে শুধু তার পরিবারই নয়, স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর গত শনিবার বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের একটি লিচু বাগান থেকে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় ফারুকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে মীরেরখীল স্লুইস গেট এলাকার পিচঢালা সড়কের পাশে ফারুকদের জরাজীর্ণ বসতঘরে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
তিন ভাই এক বোনের মধ্যে ওমর ফারুক ছিলেন মেজো। দীর্ঘ ৭ বছর ওমানে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে দেশে ফিরে বিয়ে করেছিলেন। প্রবাসের পুঁজি হারিয়ে দেশে এসে দিনমজুরি করেই টানাপোড়েনের সংসারটি টেনে নিচ্ছিলেন। সড়কের ঠিক অপর পাশের আরেকটি জরাজীর্ণ ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন তিনি। মা গুলতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে বলেন, গত ২ জুন দুপুরেও ফারুক তার সাথে শেষবারের মতো একসাথে বসে ভাত খেয়েছিলেন। তৃপ্তি করে মায়ের হাতের ভাত খেয়েই ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কে জানত, মায়ের সাথে সেটাই ছিল তার শেষ খাবার!
নিহতের পিতা মো. ওসমান বলেন, নিখোঁজের একদিন পরও যখন সন্তান ফিরে আসেনি, তখন থেকেই খোঁজাখুঁজি শুরু করি। কোথাও পাইনি। পরে লাশের খবর পেয়ে গিয়ে দেখি এটি আমার ফারুকের লাশ। খুবই নৃশংস, গন্ধ বের হচ্ছিল। সম্ভবত যেদিন নিয়ে গেছে, সেদিনই খুন করেছে।












