চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে খুব চেষ্টা চালাচ্ছেন। একাই বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গিয়ে অনিয়ম রোধ করছেন। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ প্রতিহত করছেন। তাঁর পরিশ্রম ও আন্তুরিকতা দৃশ্যমান। গত ২৮ জুলাই দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, নগরের দক্ষিণ হালিশহর নেভী হাসপাতালের গেইটের সামনে রাস্তার পাশের ড্রেনে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় তিনি সরেজমিনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। একইসঙ্গে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করেন। মেয়র চট্টগ্রাম শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজে লাগানো অবৈধ ব্যানার ও পোস্টার নিজ হাতে অপসারণ করেন মেয়র। এসময় তিনি বলেন, ফুটওভার ব্রিজ, সড়ক ও অন্যান্য জনসাধারণের স্থাপনায় অবৈধভাবে ব্যানারুপোস্টার লাগানো শুধু দৃষ্টিকটু নয়, এটি নগরীর সৌন্দর্যও নষ্ট করে। এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রীন ও হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নগরবাসীরও সচেতন ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সম্পদ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নগরীর সৌন্দর্য সংরক্ষণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ড্রেন, নালা ও পানি চলাচলের পথ দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা বা স্থাপনা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশনের স্বার্থে অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নিজস্ব স্থাপনা, বাড়ি, আঙিনা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানির আধার বিনষ্ট না করা এলাকাবাসীর নাগরিক দায়িত্ব। বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণভাবে প্রত্যেক নাগরিকের কিছু না কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। দায়িত্বশীল নাগরিক বলতে একজন ভালো নাগরিককে বোঝায়। প্রথমত মানুষটাকে সব অর্থে ভালো, সৎ ও দায়িত্ববান; নিজের এবং সপরিবারে, সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যাপারে হওয়াটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ভালো বা সুনাগরিক তাকেই বলা যায়– যার অন্যের প্রতি যথাযথ সম্মান এবং সুদৃষ্টিবোধ আছে বা থাকে। একজন ভালো নাগরিকের সূচনা বা চর্চা পরিবার ও স্কুল থেকেই শুরু যেমন ক্লাস রুমে নিজের পড়াটা তৈরি করা, শিক্ষক এবং বড়কে শ্রদ্ধা করার বিষয়গুলো যে কেউ তার স্কুল জীবনের শুরুতে চর্চা করার ও বোঝার সুযোগ পায়। দায়িত্বও পায়। দায়িত্বশীল নাগরিক হঠাৎ করে হওয়া সম্ভব না, এটাও ঠিক। পরিবেশ–পারিপার্শ্বিকতার নানা বিষয়ও একজন দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির পেছনে ভূমিকা রাখে।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের দেশে বর্তমান অগণিত সমস্যা জাতীয় জীবনকে নিপীড়িত করছে। এ সব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, কিছু কিছু দায়িত্ব নাগরিকের উপর বর্তায়। তাই সকল নাগরিককে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হলে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। গঠনমূলক পরিকল্পনা নিয়ে নিজের পরিবারে, নিজের সমাজে, নিজ অঞ্চলে এবং সমগ্র দেশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। সব সময় মনে রাখতে হবে দেশটা আমাদের। আমরা যদি ভালো হই, যদি সৎ হই, দেশপ্রেমিক হই, নিঃসন্দেহে পৃথিবীর মানচিত্রে এ দেশের নাগরিদের কল্যাণে এ দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে সন্দেহ নেই। যদি দেশের সকল নাগরিক নিজ স্বার্থের কথা না ভেবে আপামর জনসাধারণের কথা ভেবে নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে উজাড় করে শুধু দেশের জন্য এবং দশের জন্য কাজ করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই দেশে শান্তি আর সুখ ও কল্যাণ ফিরে আসবে। এজন্য সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করতে হবে। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে, তা পালন করতে হবে। এছাড়া কেউ ফুটপাত ও সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।






