পাকিস্তানে ৪০ শতাংশ শিশু খর্বকায়

অর্থনীতিতে অপুষ্টির বড় ধাক্কা

| মঙ্গলবার , ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পাকিস্তান যেখানে তরুণ জনসংখ্যার ওপর ভরসা করছে, সেখানে দেশটির পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুই খর্বকায়। ফলে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের আগেই জনগোষ্ঠীর এক বিশাল অংশ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ছে। খবর বিডিনিউজের।

এই জাতীয় পুষ্টিহীনতার কারণে পাকিস্তানকে প্রতি বছর ১৭০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভকালীন সময়ে মা ও শিশুর পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব, শিশু খাওয়ানোর সঠিক নিয়মকানুন অনুসরণের অভাব, ঘন ঘন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশই শিশুদের খর্বকায় হওয়ার মূল কারণ। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন লিখেছে, জাতীয় বাজেটে অর্থসংকট দেখা দিলে শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কমানোকে সাময়িক পদক্ষেপ মনে করা হলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। শৈশবে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ থমকে যাওয়ার এই ক্ষতি কেবল প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্থানান্তরিত হয়। পাকিস্তানের জরুরি সংকট মোকাবিলায় এবং মা ও শিশুর পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে অ্যাক্ট ফর নিউট্রিশন শীর্ষক একটি বৈশ্বিক প্রচার অভিযান ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নেতৃবৃন্দ, বিশেষজ্ঞ এবং পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, পাকিস্তানে কেবল ৪০ শতাংশের বেশি শিশু খর্বকায় তাই নয়, দেশটিতে প্রতি ১ লাখ জীবিত শিশু প্রসবে মাতৃমৃত্যুর হার ১৫৫ জন।

সম্মেলনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পাকিস্তান আজ এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে, বর্তমান ধারা অব্যাহত রেখে একটি পুরো প্রজন্মের সম্ভাবনাকে জলাঞ্জলি দেওয়া, না কি পুষ্টি সচেতনতার মাধ্যমে ভিন্ন ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়া হবে তা নির্ধারণ করার এখনই সময়। দারিদ্র্য, প্রসূতি ও শিশুর সঠিক খাদ্যাভ্যাস, দুর্বল শাসনব্যবস্থা, অপ্রতুল বিনিয়োগ ও জলবায়ুগত ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো কাটিয়ে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানোই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে হড়পা বানে ১৫ হাইকার নিখোঁজ, উদ্ধার ৬২