ফুটপাত দখল নিয়ে দৈনিক আজাদীতে গত ২৯ জুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ‘নগরীর সড়ক–ফুটপাত ঘিরে অবৈধ অর্থ আদায়ের বড় নেটওয়ার্ক, প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার অবৈধ অর্থ আদায়ের নেটওয়ার্ক। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন চক্র নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় ফুটপাত, সড়কের একাংশ এবং অলিগলি দখল করে হকার, ভ্যানগাড়ি ও ভাসমান দোকান বসিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একদিকে যেমন নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে যানজট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ বাড়লেও কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় দখলদাররা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়, জামালখান, আন্দরকিল্লা, নিউ মার্কেট, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কোতোয়ালী, ইপিজেড, স্টেশন রোড, লালদিঘি, জিপিও মোড়, সিরাজউদ্দৌলা রোড, মুরাদপুর, বহদ্দারহাটসহ নগরীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাতের বড় অংশ দখল হয়ে আছে। কোথাও স্থায়ীভাবে টেবিল বসিয়ে দোকান পরিচালিত হচ্ছে, কোথাও শত শত ভ্যানগাড়ি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ভাসমান বাজারে পরিণত হয়েছে। অনেক স্থানে ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। জিইসি মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজার পাশের ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে। শুধু ফুটপাত নয়, সড়কের একটি অংশেও টেবিল ও ভাসমান দোকান বসানো হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে ও আর নিজাম রোডমুখী যান চলাচলের জন্য সিমেন্টের ব্লক দিয়ে একটি সরু লেন তৈরি করা হয়। সমপ্রতি সেই লেনের একাংশ দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। ফলে একটি গাড়ি কোনোরকমে চলাচল করতে পারলেও সামান্য চাপ তৈরি হলেই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, নগরীর সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলে থাকতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শিগগির উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র ময়লা–আবর্জনা ফেলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসলে সাধারণত ব্যস্ত সড়কের পাশে ফুটপাত তৈরি করা হয় সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য। মানুষ যেন অনায়াসে চলাফেরা করতে পারে, ফুটপাত ব্যবহার করতে পারে; সেজন্য ফুটপাত পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। এর পাশে দোকানপাট নির্মাণ বা ফুটপাতের ওপর দোকানের বর্ধিত অংশ চলে যাওয়া বা হকারদের বসতে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখি! দেখি এর বিপরীত চিত্র। ছোট ছোট দোকান, নির্মাণসামগ্রী, ব্যবসাসামগ্রী আর হকারদের ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিদিনই হয়রানি পোহাচ্ছেন পথচারীরা। আবার কোথাও কোথাও পাশের দোকানের পণ্যসামগ্রী রাখা হয় সামনের ফুটপাত দখল করে। ফুটপাতের পাশে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর মালামালেই দখলে থাকে ফুটপাতের অর্ধেক জায়গা। ফলে ফুটপাতে চলাচল করতে পথচারীদের অসুবিধা হয়। অনেক সময় ফুটপাতের এ অবস্থার জন্য পথচারীদের রাস্তার পাশ দিয়ে চলতে হয়। বিশেষ করে নারীদের চলাচলে বেশি অসুবিধা দেখা দেয়। এসব দোকানে জনসাধারণের ভিড়ের কারণে নারী পথচারীদের চলাচল করতে হিমশিম খেতে হয়। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের প্রধান সড়কে হাঁটতে হয়। নগর বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফুটপাত শুধু রাস্তা বা সড়কের সৌন্দর্যই বাড়ায় না। পথচারীদের নিরাপদে হাঁটতে সাহায্য করে। নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযুক্ত স্থান ফুটপাত। প্রশস্ত ফুটপাতের কারণে যানজট বা দুর্ঘটনাও কমে অনেক। ব্যস্ত নগরীকে যানজটমুক্ত রাখতে স্বল্প দূরত্বে হেঁটে চলারও কোনো বিকল্প নেই।
এই ফুটপাতে অবৈধ উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় দখল হয়ে না যায় সেই পদক্ষেপও নিতে হবে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জায়গায় নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। কোনো হুমকি, ধামকি বা প্রলোভনে যেন কাজ না হয়। এ বিষয়ে সিটি মেয়রকে দৃঢ় ও কঠোর থাকতে হবে।








