নগরীতে ভুয়া ডিবি পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে স্বর্ণ বিক্রির নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় সোয়া কোটি টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় কথিত চক্রের মূলহোতা সাজু মিয়াকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ১৬ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে সাজু মিয়া ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানার কে.সি. দে রোড এলাকার শহীদ মিনারের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে ব্যবসায়ী পুলক দাশকে (৪৫) ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার কাছে থাকা স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২০ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেয় তারা। এসব জিনিসপত্রের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। লুটের পর পুলক দাশকে মুখ বেঁধে একটি গাড়িতে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে গাড়ি থেকে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
পিবিআই জানায়, মামলাটি তদন্তে নিয়ে পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলামের সার্বিক নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্তের চেষ্টা শুরু করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ধারাবাহিক অভিযানের একপর্যায়ে গত ১৬ আগস্ট ভুয়া ডিবি চক্রের মূলহোতা সাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর সাজু মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও লুটের ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।












