শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয়, কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে সন্তানদের চাপে রাখতে চাই।
নিজেদের ব্যর্থতা তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাই, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষাগ্রহণ শেষে সার্টিফিকেট তাদের জন্য বোঝা না হয়ে ওঠে। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পড়ানোর চেয়ে কাউন্সেলিংয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দীপ্ত প্রজন্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘দীপ্ত প্রজন্ম মেধাবৃত্তি ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘এসো উড়াই বেগে স্বপ্ন ঘুড়ি’ স্লোগানে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ২৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এবার ৪০০ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দীপ্ত প্রজন্ম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এইচ এম রাশেদ খান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এডহক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ইসরাফিল খসরুকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসক বলেন, আজকের শিশু–কিশোররাই আগামী দিনে দেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসবে। তারাই দেশের নেতৃত্ব দেবে এবং আলোকিত দেশ গড়ে তুলবে। সঠিক যত্ন, পরিচর্যা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে শিশু–কিশোরদের গড়ে তুলতে পারলে তারাই ভবিষ্যতে দ্যুতি ছড়াবে।
সংবর্ধিত অতিথি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু বলেন, চাহিদাসম্পন্ন ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।
তা না হলে যুবসমাজের একটি অংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে জাতিকে নতুনভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিশ্ব শ্রমবাজারেও নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে। দীপ্ত প্রজন্ম বাংলাদেশ তৃণমূল থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তুলে আনার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, পাইলট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, শিক্ষক মুহাম্মদ তজল্লী আজাদ, সাহেদুল কবির চৌধুরী, আবু তালেব বেলাল, আবদুস সাত্তার, মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, মইনউদ্দিন ইমন ও অধ্যাপক ড. আনন্দ বিকাশ চাকমা। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ ও প্রাইজ বন্ড বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন নিঝুম ও অন্বেষা শিবা এবং নৃত্য পরিবেশন করেন নেভি দাশ অথৈ পরিচালিত কৃত্তিকা নৃত্যালয়ের শিল্পীরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।













