বাঁশখালী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ আশকরিয়া সড়কে ১৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এ কাজে একদিকে যেমন দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ, অন্যদিকে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। কাজ চলাকালীন সঠিক তদারকি না করা এবং মাঠপর্যায়ের শ্রমিকেরা নিজেদের মতো করে কাজ চালিয়ে নেওয়ার কারণে সব মিলিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নির্বাচিত মেয়র আত্মগোপনে গেলে সেখানে বিগত দিনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং পরবর্তীতে বাঁশখালীতে কর্মরত ২/৩ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। তবে নানা কারণে পৌরসভার চলমান উন্নয়নকাজগুলো পুরোপুরি তদারকিহীন অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ। এছাড়া উপজেলা পরিষদের উত্তর পাশ থেকে পৌরসভা কার্যালয় পর্যন্ত ড্রেন সংস্কার কার্যক্রম চললেও তা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্টরা সেই কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি।
বাঁশখালী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, থানার উত্তর পাশ হয়ে দীর্ঘ তিন কিলোমিটারের পৌরসভা আশকরিয়া সড়কটির নির্মাণকাজ প্রায় ১৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছিল ‘ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এক বছর মেয়াদের এই কাজটি নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়ায় এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়ায় তৎকালীন প্রশাসক ও পৌরসভার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সড়কটির চলমান কাজ পরিদর্শন করে দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও অত্যন্ত মন্থর গতিতে চলছে কাজ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটু পরিমাণ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়ে। অথচ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী, সরল ইউনিয়নের কাহারঘোনা ও মিনজীরিতলাগামী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। আস্করিয়ার বাসিন্দা আশেক এলাহী বলেন, দীর্ঘ সময়ে চলমান এ কাজে ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। পৌর এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ, জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। কাজটি দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে যেন সিমেন্টের পরিবর্তে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় সামান্য চাপেই উঠে আসছে নির্মাণের ওপরের অংশ। এদিকে ঈদের আগে থেকে কাজ বন্ধ করে চলে গেলেও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কাজ শুরু না করায় স্থানীয় জনগনের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাঁশখালী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে ঠিকাদারেরা ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। বৃষ্টি কমে গেলে পুনরায় সড়কটির কাজ শুরু করা হবে। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা জানালে তিনি বলেন, ড্রেনের কাজে বিভিন্ন জটিলতার কারণে ঠিকাদার পুরোদমে কাজ করতে পারেনি।











