ড. মো. আহসানুল হক : ওয়ান হেলথ ও ভেটেরিনারি শিক্ষায় অন্যতম পথিকৃৎ

জসীম উদ্দিন তালুকদার | বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

প্রফেসর ড. মো. আহসানুল হক (রোকন) তেমনই একজন শিক্ষাবিদ, যাঁর তিন দশকের কর্মজীবনে জ্ঞান ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষা সংস্কার, মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্ন। ভেটেরিনারি এপিডেমিওলজি, ওয়ান হেলথ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এবং উচ্চশিক্ষা সংস্কারে তাঁর অবদান তাঁকে অনন্য একাডেমিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক, ভেটেরিনারি এপিডেমিওলজির প্রফেসর (গ্রেড) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। বাংলাদেশের প্রথম নিবেদিত ভেটেরিনারি এপিডেমিওলজি অধ্যাপক হিসেবে তিনি এমন সময়ে এই বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার পথ নির্মাণ করেন, যখন দেশে এটি স্বতন্ত্র বিশেষায়িত ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল না। তাঁর প্রচেষ্টায় এপিডেমিওলজি আজ প্রাণিস্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য, রোগনিয়ন্ত্রণ, খাদ্যনিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ও ফার্মাকোলজিতে এমএস করার পর তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ভেটেরিনারি কলেজ ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে ভেটেরিনারি এপিডেমিওলজিতে এমএস এবং অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক ইউনিভার্সিটি থেকে এপিডেমিওলজিতে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি অঁংঃৎধষরধহ ধহফ ঘব িতবধষধহফ ঈড়ষষবমব ড়ভ ঠবঃবৎরহধৎু ঝপরবহঃরংঃংএর ঠবঃবৎরহধৎু ঊঢ়রফবসরড়ষড়মু ঈযধঢ়ঃবৎএর সদস্য।

১৯৯৫ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম সরকারি ভেটেরিনারি কলেজে শিক্ষকতায় যোগ দেন। পরে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক হয়ে অধ্যাপক গ্রেড১ হন। তিনি সিভাসুর ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও ফার্মাকোলজি এবং জেনোমিক্স ও বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রধান এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সমন্বয়ক ছিলেন। বিভিন্ন একাডেমিক, গবেষণা, নৈতিকতা, পরিকল্পনা, ভর্তি ও পদোন্নয়ন কমিটিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশিবিদেশি বৈজ্ঞানিক জার্নালের রিভিউয়ারও তিনি।

তাঁর ১২০টির বেশি ঢ়ববৎৎবারববিফ গবেষণা ৩,৪০০ বারের বেশি উদ্ধৃত হয়েছে। তাঁর যরহফবী ৩৫এর বেশি এবং র১০রহফবী ৮১। জুনোটিক রোগ, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, অগজ, রোগ সংক্রমণের গতিবিদ্যা, পোল্ট্রি ও প্রাণিস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ুসহনশীল প্রাণিসম্পদ, ঙহব ঐবধষঃয ঢ়ড়ষরপু ও াবঃবৎরহধৎু বফঁপধঃরড়হ ৎবভড়ৎস তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র। তাঁর নেতৃত্বে দেশে ৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি গবেষণাশিক্ষা অর্থায়ন এসেছে।

২০১২ সালে ঋঅঙএর সহায়তায় মানুষ ও পাখির মধ্যে ঐরমযষু চধঃযড়মবহরপ আরধহ ওহভষঁবহুধএর সংক্রমণ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন তিনি। গত তিন দশকে তঙখঅ চৎড়লবপঃ, ঐ৫ঘ১ ঞৎধহংসরংংরড়হ উুহধসরপং, তড়ড়হড়ঃরপ ওহভষঁবহুধ চৎবঢ়ধৎবফহবংং চৎড়লবপঃ, ঙহব ঐবধষঃয চড়ঁষঃৎু ঐঁন, ইঅখতঅঈ চৎড়লবপঃ, ঠবঃবৎরহধৎু ঊফঁপধঃরড়হ ঞরিহহরহম চৎড়লবপঃ, ঝঁংঃধরহধনষব ডধঃবৎ ইঁভভধষড় উধরৎু ঈযধরহ, টফফবৎ ঐবধষঃয ঈড়হঃৎড়ষ চৎড়মৎধসসব ও ঐঊঅঞসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রকল্পে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বস্থানীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। ঋঅঙ, টকজও, এঈজঋ, ওঘজঅঊ ঋৎধহপব, ঈরঃু টহরাবৎংরঃু ড়ভ ঐড়হম কড়হম, ঝবিফরংয জবংবধৎপয ঈড়ঁহপরষ, ডঙঅঐ, উঅঘওউঅ, ঝবিফরংয এড়াবৎহসবহঃ, খঅঘঝঅ, ঈওঠগঊ, ঊঁৎড়ঢ়বধহ ঈড়সসরংংরড়হ, অঁংঃৎধষরধহ ইরড় ংবপঁৎরঃু ঈজঈ ও টএঈ সহ বহু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর গবেষণা সহযোগিতা রয়েছে। এসব প্রকল্প তরুণ গবেষকদের প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সুযোগও তৈরি করেছে।

ভেটেরিনারি শিক্ষায় তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান পরিবর্তনের সাহস। তিনি সিভাসুর উঠগ পাঠ্যক্রমে প্রথম চৎড়নষবসইধংবফ খবধৎহরহম চালু করেন। চৎড়ভবংংরড়হধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঈড়ঁৎংব, দেশের প্রথম ংরসঁষধঃবফ ঈষরহরপধষ ঝশরষষং খধনড়ৎধঃড়ৎু, মাঠপর্যায়ের ভেটেরিনারিয়ানদের ঈড়হঃরহঁড়ঁং ঊফঁপধঃরড়হ চৎড়মৎধসসব ও প্রথম ঘধঃরড়হধষ উঠগ ওহঃবৎহ ঈড়হভবৎবহপব চালু করেন। উঠগ ওহঃবৎহংযরঢ় আধুনিকায়ন, গঝ রহ ঊঢ়রফবসরড়ষড়মু ও গঝ রহ অঢ়ঢ়ষরবফ ঊঢ়রফবসরড়ষড়মু প্রোগ্রাম উন্নয়ন, গচঐ পঁৎৎরপঁষঁস আন্তর্জাতিক মানে হালনাগাদ এবং পৎবফরঃনবধৎরহম ঙহব ঐবধষঃয ঈবৎঃরভরপধঃব ঈড়ঁৎংব প্রবর্তনেও তিনি অগ্রণী। জবংবধৎপয ওহঃবৎহ, ঝপরবহঃরভরপ জবঢ়ড়ৎঃ ধহফ ঞযবংরং এঁরফবষরহব এবং সিভাসুর প্রথম ঝঢ়ষরঃ চযউ চৎড়মৎধসসব প্রবর্তনেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

গবেষক তৈরিকে তিনি অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ১১ জন পিএইচডি গবেষক (একজন বিদেশি) কাজ করেছেন। এছাড়া তিনজন এমফিল, ৪১ জন গঝ ও গচঐ শিক্ষার্থীকে তিনি তত্ত্বাবধান করেছেন। তাঁর অধীনে ৪০টির বেশি উঠগ ওহঃবৎহ জবঢ়ড়ৎঃ সম্পন্ন হয়েছে। বিষয় নির্বাচন, ঢ়ৎড়ঢ়ড়ংধষ, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, লেখা, নৈতিকতা ও প্রকাশনার প্রতিটি পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন।

যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, পেশাগত নৈতিকতা, সমস্যা সমাধান, অভিযোজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকেই তিনি পূর্ণাঙ্গ পেশাজীবীর ভিত্তি মনে করেন। শিক্ষক তাঁর কাছে মেন্টর ও পথপ্রদর্শক। ঙহব ঐবধষঃয ণড়ঁহম ঠড়রপব ইধহমষধফবংয, ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঠবঃবৎরহধৎু ঝঃঁফবহঃং্থ অংংড়পরধঃরড়হ ইধহমষধফবংয, ওঅঅঝ ইধহমষধফবংয ও ঈঠঅঝট ঊঢ়রফবসরড়ষড়মু অষঁসহর অংংড়পরধঃরড়হএর উপদেষ্টা হিসেবে তিনি তরুণদের গবেষণা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও স্বেচ্ছাসেবায় উৎসাহিত করছেন; ঘধঃরড়হধষ উবনধঃব ঋবফবৎধঃরড়হ ইধহমষধফবংযএর সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াও তাঁর কর্মদর্শনের অংশ। পোল্ট্রি স্বাস্থ্য, নরড়ংবপঁৎরঃু, াধপপরহধঃরড়হ, ধহঃরসরপৎড়নরধষ ঁংব, খাদ্যনিরাপত্তা, ওলানস্বাস্থ্য, হাঁস পালন ও জুনোটিক রোগ প্রতিরোধে তিনি ভেটেরিনারিয়ান, শিক্ষার্থী, খামারি ও কমিউনিটি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ঝঃধশবযড়ষফবৎ গববঃরহম, চড়ষরপু উরধষড়মঁব ও জড়ঁহফঃধনষবএ সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, খামারি, ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের যুক্ত করেছেন।

শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ইফতারসামগ্রী বিতরণ, শীতবস্ত্র ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান, ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প, প্রাণিস্বাস্থ্য ও টিকাদান সচেতনতা, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ এবং সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছেন।

তিনি ঝড়ঁঃয অংরধ ঠবঃবৎরহধৎু ঊফঁপধঃরড়হ ঊংঃধনষরংযসবহঃং ধহফ ঠবঃবৎরহধৎু ঝঃধঃঁঃড়ৎু ইড়ফরবং ঘবঃড়িৎশএর বিশেষজ্ঞ সদস্য। অমৎরপঁষঃঁৎরংঃং অংংড়পরধঃরড়হ ড়ভ ইধহমষধফবংযএর চট্টগ্রাম শাখা, ইধহমষধফবংয ঠবঃবৎরহধৎু অংংড়পরধঃরড়হ, ডড়ৎষফ্থং চড়ঁষঃৎু ঝপরবহপব অংংড়পরধঃরড়হ ইধহমষধফবংয, ঙহব ঐবধষঃয ইধহমষধফবংয ও ইধহমষধফবংয ঝড়পরবঃু ভড়ৎ ঠবঃবৎরহধৎু ঊফঁপধঃরড়হ ধহফ জবংবধৎপযসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনে নেতৃত্ব বা সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।

প্রফেসর হকের মিশন গবেষণাকে দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান, সরকারি নীতি, রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ খাদ্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা। তাঁর ঙহব ঐবধষঃয দর্শনে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য পরস্পরনির্ভর। অগজ মোকাবিলায় তিনি দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, ঝঁৎাবরষষধহপব, ইরড়ংবপঁৎরঃু, অহঃরসরপৎড়নরধষ জবংরফঁব ঈড়হঃৎড়ষ ও ঊারফবহপবইধংবফ চড়ষরপুতে গুরুত্ব দেন। তাঁর স্বপ্ন গবেষণানির্ভর, আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ছঁধষরঃু অংংঁৎধহপব, অপধফবসরপ ওহঃবমৎরঃু, উরমরঃধষ ঞৎধহংভড়ৎসধঃরড়হ, ওহঃবৎফরংপরঢ়ষরহধৎু জবংবধৎপয, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও এৎধফঁধঃব ঊসঢ়ষড়ুধনরষরঃু হবে ভিত্তি।

তাঁর প্রকৃত উত্তরাধিকার প্রকাশনা, সাইটেশন, প্রকল্প কিংবা পদপদবিতে নয়; তা নিহিত শিক্ষা সংস্কার, গবেষক তৈরি, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণে। জ্ঞানের সঙ্গে মানবিকতা, শৃঙ্খলার সঙ্গে মমত্ব এবং ব্যক্তিগত অর্জনের সঙ্গে দেশ ও সমাজের দায়বদ্ধতার এই সমন্বয়ই তাঁকে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও ওয়ান হেলথ অঙ্গনের এক আলোকিত পথিকৃতে পরিণত করেছে।

লেখক : শিক্ষক ও ফিচার লেখক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপুষ্টিহীনতা হামের উপসর্গের অন্যতম কারণ
পরবর্তী নিবন্ধসুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘১ টাকায় বৃক্ষরোপণের’ চারা বিতরণ