নগরীর ডবলমুরিং এলাকার একটি এপার্টমেন্ট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১২ জন আইনজীবী রয়েছেন। সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গত শনিবার বিকালে মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনি সংলগ্ন হাজী ফজলুল করিম চৌধুরী ‘রয়েল টার্চ’ এপার্টমেন্টের ৫ম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে ৭ আইনজীবীসহ ১০ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন। একই সময় বাকী ৫ জন নারী আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করেছেন তিনি। জামিন পাওয়া ৫ নারী আইনজীবী হলেন উম্মে হাবিবা, কামেলা খানম রুপা, সুজলা অন্তরা, শারমিন ইয়াসমিন নিশু ও আয়েশা হেভেন। কারাগারে যাওয়া ১০ জন হলেন আইনজীবী শুভ আইচ, সঞ্জয় কান্তি নাথ, আহসান আবিদ, সুলতান মাহুমদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, যিশু রায় চৌধুরী ও মশিউর রহমান আবীর এবং কামেলা খানম রুপার স্বামী মো. ইস্কান্দার মির্জা, উম্মে হাবিবার আত্মীয় জাকির হোসেন ও এসএম আলাউদ্দিন।
পুলিশ জানায়, উম্মে হাবিবা কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক, ইস্কান্দার মির্জা হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক, শুভ আইচ নগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, কামেলা খানম রুপা চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহবায়ক, সুজলা অন্তরা হচ্ছেন নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ–সম্পাদক এবং শারমিন ইয়াসমিন নিশু নগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
নগর পুলিশের উপ–কমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল আজাদীকে বলেন, নাশকতার একটি মামলায় ডবমলুরিং থানা পুলিশ ১৫ জন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করলে বিচারক ৫ জনকে জামিন দিয়ে বাকীদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতসূত্র জানায়, গ্রেপ্তার পরবর্তী ১২ আইনজীবীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে। ডবলমুরিং থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) আখতারুজ্জামান সোহাগ বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজহারে বলা হয়, রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি উপলক্ষে সরকারবিরোধী বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে–এমন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ আইনজীবীসহ মোট ১৫ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষে নেতাকর্মীদের দিয়ে ডবলমুরিংসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল করানোর জন্য তারা জড়ো হয়েছিলেন বলেও এজহারে বলা হয়।












