ট্রাম্প বলেছেন ইরান চুক্তি হবে আজ, দ্বিমত তেহরানের

| রবিবার , ১৪ জুন, ২০২৬ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি রোববার (আজ) স্বাক্ষর হওয়ার সূচি নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু ইরান এতো তাড়াতাড়ি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। গতকাল শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘চুক্তিটি রোববার স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে আর স্বাক্ষর হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।’ এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এঙে জানিয়েছিলেন, শান্তি চুক্তির জন্য একটি রূপরেখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হয়েছে আর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর বিডিনিউজের।

শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, ‘আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আমরা একটি শান্তি চুক্তির কাছাকাছি আছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, এর পরপরই পাকিস্তান শান্তি চুক্তির ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, এরপর আগামী সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, রোববার ইসলামাবাদ স্মারকলিপি স্বাক্ষরের সঠিক সময় হবে না। আসছে দিনগুলোতে ইসলামাবাদ স্মারকলিপি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তিনি এও বলেন, ‘অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তিন মাসেরও বেশি যুদ্ধের মধ্যে থাকার পর শান্তি চুক্তির জন্য একটি রূপরেখা নিয়ে সম্মত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। হামলার জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যস্থলগুলোতে ও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের মিত্র ও লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে হামলা শুরু করে। এতে প্রায় পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা শুরু হয়।

পরে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু লেবানন ফ্রন্টে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে। এই যুদ্ধে যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে তাদের অধিকাংশ ইরান ও লেবাননের নাগরিক। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্য অনেক বেড়ে গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রবাস ফেরত দুই ভাইকে দেখতে বাপের বাড়ি যাচ্ছিলেন, সড়কে মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধশূন্যরেখায় রাত কাটছে ঠেলে দেওয়া ১২ জনের