কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে অভিযুক্ত মো. কবির ওরফে ডা. কবির এবং তার সহযোগী মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পরিচালিত যৌথ অভিযানে হত্যা ও অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে ১০ জনকে দণ্ড প্রদান এবং একটি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদারের নেতৃত্বে গতকাল রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
১৬ এপিবিএন এর কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মানবপাচারের একাধিক মামলার আসামি মো. কবির ওরফে ডা. কবির (৬৫) এবং তার সহযোগী মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বারকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনই টেকনাফের লেদা এলাকার ২৪ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, এ বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি নৌযান আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ডুবে যায়। নৌযানটি ডুবে যাওয়ার পর ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে ভাসতে থাকা কয়েকজনকে কোস্টগার্ড উদ্ধার করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই নৌযানটি পাঠানোর সঙ্গে গ্রেপ্তার দুজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এছাড়া গতকাল হত্যা ও অস্ত্র–সংক্রান্ত তিনটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আবু তৈয়ব (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত ক্যাম্পের বাসিন্দা। ১৬ এপিবিএন সূত্র জানায়, একটি মামলায় তার চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের সাজা রয়েছে।
মোবাইল কোর্টে ১০ জনের দণ্ড : অভিযান চলাকালে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারি আদেশ অমান্য, মাদক সেবন, বাবা–মাকে মারধর, ক্যাম্পে অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে ছয় মাস করে, একজনকে পাঁচ মাস এবং দুজনকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও চারজনকে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে রিকল মূলে আরও একটি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
১৬ এপিবিএন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।












