চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে দেয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) বলেছে, এই ধরণের আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে বন্দর পরিচালনায় জাতীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে।
সেই সঙ্গে তা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যও ‘হুমকি’ তৈরি করবে বলেও তারা দাবি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষায়’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে স্কপ নেতারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি সাক্ষাতের আবেদন জানান।
লিখিত বক্তব্যে স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। দেশীয় কর্মসংস্থান সঙ্কুচিত ও শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। পাশাপাশি বন্দর পরিচালনায় জাতীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বলে আখ্যায়িত করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বন্দর শুধু একটি অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বাধীন অর্থনৈতিক সক্ষমতারও অন্যতম ভিত্তি।
ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বিভিন্ন মহলে আলোচিত, তারা এখনো বহাল রয়েছেন।
গত ৮ এপ্রিল বিডার চেয়ারম্যানসহ নৌ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দাবি করে কামাল খান বলছেন, আমরা জানতে পেরেছি, নতুন প্রস্তাবে শুধু এনসিটি নয়, সিসিটি, জিসিটি, ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কার্যত চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণের অর্থে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের শ্রমে এবং রাষ্ট্রের নিজস্ব বিনিয়োগে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো বিদেশি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। টার্মিনালগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় দক্ষতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে ‘বিদেশি কোম্পানি ছাড়া বন্দর চলবে না’– এই প্রচার ‘সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দর একটি কেপিআই স্থাপনা এবং একই অঞ্চলে নৌবাহিনীর প্রধান কার্যালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দর অবস্থিত উল্লেখ করে কামাল খান বলেন, এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা প্রশ্ন শুধু ব্যবসা বা মুনাফার বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি, বন্দর শ্রমিক–কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমন করতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং দমনমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বন্দর নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। অনেক শ্রমিক নেতাকে সাময়িক বরখাস্ত ও বদলি করা হয়েছিল। শ্রমিক–কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে প্রশাসন সে সব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেও হয়রানি বন্ধ হয়নি।
বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে জনগণ, শ্রমিক–কর্মচারী, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক। অন্যদের মধ্যে স্কপ নেতা তপন দত্ত, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এস কে খোদা তোতন, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, খোরশেদুল ইসলাম, রবিউল হক শিমুল, হেলাল উদ্দিন কবির, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বন্দর শ্রমিক নেতা আব্দুর রউফ লিটন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।











