ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিরোধী দল জামায়াতের ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের একটি আসনের প্রার্থিতা নিয়ে যে জটিলতা ছিল, তার অবসান হল। আদালতের আদেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার পর গতকাল সোমবার বিনাভোটে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নাম, ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য দিয়েছেন।
এ সংসদে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র জোটের ১ জন রোববার রাতে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এখন একটি আসনের সংসদ সদস্য কে হচ্ছেন, তা নিষ্পত্তি করল নির্বাচন কমিশন–ইসি। খবর বিডিনিউজের।
জামায়াত জোটের ১৩ জনের মধ্যে এনসিপির প্রার্থী ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। গেল ২১ এপ্রিল আসনটিতে জামায়াত জোটের পক্ষে মনিরা শারমিন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। নির্বাচন কমিশনও তার আপিল খারিজ করে দেয়। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন মনিরা শারমিন, যা শুনানির অপেক্ষায় আছে। মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, এমন আশঙ্কার মধ্যে এনসিপি আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি জামায়াত জোটের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেন ২১ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ের পরে। রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি। পরে আদালত এ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশ দেয়। এরপর জ্যোতির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার এবং রোববার এ সংক্রান্ত তালিকাও প্রকাশ করা হয়। এ অবস্থায় তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয় গতকাল সোমবার।
ইসির সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আদালতের আদেশে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বৈধ করে। রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করেন নি তিনি। আইন অনুযায়ী, আমরা তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট করার সিদ্ধান্ত দিয়েছি।
এনসিপির আরেক প্রার্থীর আদালতে শুনানির কথা ছিল গতকাল। কমিশনার মাছউদ বলেন, বিকাল পযন্ত এ বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আদালতের আদেশে একজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে বৈধ হওয়ার পর গেজেট করছি আমরা। এটাও আদালতের আদেশ। ভবিষ্যতে অন্যভাবে যদি আদেশ দেয় সেটাও প্রতিপালন করতে হবে।
একটি আসন নিয়ে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা দেখছেন না এ নির্বাচন কমিশনার। বলেন, আমরা গেজেট করে দিয়েছি। আদালত যখন যে আদেশ দেবেন, সে অনুযায়ী করবো আমরা। রোববারও কোনো আদালতের কোনো আদেশ আসেনি, গতকাল সোমবারও আসেনি। আইন অনুযায়ী আজকেই গেজেট করা উচিত সেটা আমরা দিয়েছি। যদি বলে এ গেজেট বাতিল করতে তা–ও করতে হবে। আমরা কোনো জটিলতা মনে করি না।













