চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। চলতি বছর এ বোর্ডে পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত হয় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। বিপরীতে অকৃতকার্য হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন। পাসের হারে এবারও ছাত্রীদের অবস্থান কিছুটা ভালো। চলতি বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
তবে গত কয়েক বছরের হিসাব দেখলে দেখা যায়, শুধু ছেলেদের নয়, ছাত্রীদের ফলাফলও উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়েছে। ছাত্রীদের পাসের হার ২০২২ সালে ছিল ৮৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা ৭৮ দশমিক ৭২, ২০২৪ সালে ৮৩ দশমিক ২১ এবং ২০২৫ সালে তা ৭২ দশমিক ১৯ শতাংশে নেমে আসে। এবার সেটি আরও কমে ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ হয়েছে।
ছাত্রদের ক্ষেত্রে ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৭৭ দশমিক ৭৫, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ২৯ এবং ২০২৫ সালে ৭১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এবার তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশে।
চট্টগ্রাম বোর্ডের এবারের ফলাফলের অন্যতম উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা। মোট ২৮ হাজার ৭৭১ জন শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে ফেল করেছে। তাদের অনুপাতে এক বিষয়ে অকৃতকার্যের হার ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানেই একটি বিষয়ে অকৃতকার্যের হার বেশ বেড়েছে।
ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো শূন্য পাসের বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি। ২০২৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ৩৮টি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। পাঁচ বছরের ব্যবধানে জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এবারের ফলাফলে একসঙ্গে কয়েকটি নেতিবাচক চিত্র উঠে আসে। পাসের হার সর্বনিম্ন, জিপিএ–৫ কমেছে, শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে এবং শূন্য পাসের বিদ্যালয় বেড়েছে। একই সঙ্গে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর হারও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।












