ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, ১৮০০ স্কুল বন্ধ

| বুধবার , ৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। পরে প্যারিসের বড় সমাবেশে আরও ৪০ হাজার মানুষ যোগ দেওয়ার কথা ছিল। জাতীয় লিসে শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৩ হাজার ৭০০ উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি মঙ্গলবার অবরুদ্ধ ছিল অথবা দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়। কিছু এলাকায় অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে কোথাও কোথাও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কিছু বিক্ষোভকারী আবর্জনার স্তূপে আগুন, বাসস্টপ ভাঙচুর ও পুলিশের দিকে বস্তু নিক্ষেপ করেছেন। পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্র দিয়ে জবাব দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ কর্মকর্তা ও ২১৫ কিশোর আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ হাজার ১০০ জনকে, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলছে। খবর বাংলানিউজের।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ স্কুল সময় পুনর্বিবেচনা এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু এসব দাবি পূরণে মন্ত্রীদের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, বিক্ষোভে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রান্সে তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ পুলিশি দমন’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১০টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।

বিক্ষোভে গুরুতর আহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ট্যুর শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। আর প্যারিসের উত্তর–পশ্চিমে পুলিশের একটি গ্রেনেডের আঘাতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের অধিকাংশ দাঁত ভেঙে গেছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র সাত মাস আগে এই আন্দোলন সরকারকে আরও চাপে ফেলেছে। একই সময়ে ফ্রান্সের বাড়তে থাকা বাজেট ঘাটতি, ঋণ ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বাড়ছে। সরকার বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজকে আন্দোলনে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ করেছে। দলটির নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জঁ–লুক মেলঁশোঁ বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানালেও সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইতালি যেতে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি
পরবর্তী নিবন্ধআদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার মামলায় ফের পালাল শরিফুল