ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েতে হার দিয়ে শুরু টাইগারদের

ওয়ানডে সিরিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | মঙ্গলবার , ৭ জুলাই, ২০২৬ at ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর ওয়ানডে সিরিজে ভালো কিছু করার লক্ষ্য থাকলেও উল্টো হয়েছে টাইগারদের। নাহিদ রানার রেকর্ডময় বোলিংয়ের দিনে ব্যাট হাতে রীতিমত বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের এই ব্যর্থতায় নাহিদের সাফল্যের মূল্য দিতে পারেননি শান্তমিরাজতাওহীদরা। হারারে স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভয়াবহ ব্যাটিংয়ে ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা। তাতেই ২৫ রানের জয় দিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে যায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। গতকাল সোমবার হারারেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে জিম্বাবুয়ে। তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা স্পেলের পর নাহিদ রানা একাই গুঁড়িয়ে দেন স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে নবম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামহুরির ৬৩ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে স্বাগতিকরা। নিয়ামহুরি করেন সর্বোচ্চ ৩৩ রান, এনগারাভার ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান। শেষ পর্যন্ত ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানেই অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের সেরা বোলিং করেন। তাসকিন আহমেদ নেন ২টি উইকেট। ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচে কখনোই নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি সফরকারীরা। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডারকেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। শেষদিকে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা হলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। জিম্বাবুয়ের পেসারদের তোপে ১৭ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসানকে ৮ ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ৩ রানে শিকার করেন মুজারাবানি। আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারকে ৬ রানে থামান অধিনায়ক এনগারাভা। চতুর্থ উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে চাপমুক্ত করেন তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। হৃদয়কে থামিয়ে জিম্বাবুয়েকে ব্রেকথ্রু এনে দেন ন্যামহুরি। ৫৮ বল খেলে ১টি চারে ২৫ রান করেন হৃদয়। দলীয় ৬৬ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে হৃদয় ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে হারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৫০ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। মোসাদ্দেক হোসেন ৩, মিরাজ ১০, সোহান ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৩১, রিশাদ ৩, তাসকিনমোস্তাফিজ ৫ রান করে আউট হন। ৫ রানে অপরাজিত থাকেন রানা। জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্র্যাড ইভান্স ৩টি, ব্লেসিং মুজারাবানি ২টি এবং রিচার্ড এনগারাভা ২টি উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত ৩২.২ ওভারে ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। নাহিদ রানার রেকর্ডগড়া বোলিংও তাই শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশকে। সিরিজে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। আগামী ৯ জুলাই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবালোগানের লাল কার্ড স্থগিত প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ট্রাম্প
পরবর্তী নিবন্ধমেক্সিকোর উৎসব থামিয়ে শেষ আটে ইংল্যান্ড