চুয়েটে শাটডাউন গড়াল ১৭ দিনে

একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ, স্থগিত ২৫-৩০টি পরীক্ষা

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | শুক্রবার , ৯ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:১২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক শাটডাউন ১৭ দিনে গড়িয়েছে। এতে ক্লাস–পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা শেষে সেখানে যোগ দেন শিক্ষকরা।

আন্দোলন নিয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের একটি সাধারণ সভা ছিল, যেখানে সবাই একমত হয়েছেন যে আমরা চুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে উপাচার্য হিসেবে চাই না। সামনে দুর্গাপূজার ছুটি রয়েছে; সংকটের সমাধান না হলে সে পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে। ইতিমধ্যে অনেকে মধ্যপর্বের ছুটিতে থাকায় তাদের বড় একাডেমিক ক্ষতি হচ্ছে না। পরবর্তীতে প্রয়োজনে ক্লাস নিয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, আমরা সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে অটল আছি এবং সরকার দ্রুত সমাধান দেবে বলে আশা করছি। আগামী সপ্তাহে আমরা আবারও সভা করে পরবর্তী কর্মসূচি বা ক্লাস–পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

এদিকে চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই–অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা। এর জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সামনে পূজা এলেও চলমান সংকটের কারণে আমাদের কারও মনে শান্তি নেই।’

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থার কারণে চুয়েটে বড় ধরনের সেশনজট ও একাডেমিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শাটডাউনের কারণে বিভিন্ন বিভাগের ২৫ থেকে ৩০টি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল, ইটিই, মেটালার্জিক্যাল এবং মেকাট্রনিঙ বিভাগের চলমান পরীক্ষাগুলো বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি বিভাগের ক্লাস শেষ হলেও চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তুষার আহমেদ বলেন, ‘১৭ দিন ধরে ক্লাস–পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমরা চাই ক্যাম্পাসে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসুক। তবে একই সঙ্গে আমরা অধ্যাপক সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবি থেকে সরব না। আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান চাই।’

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে জরুরি সভা করে পূর্ণ কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষক সমিতি। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর কর্মকর্তা সমিতিও একই সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীরা মিছিল, অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। পরে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, মশাল মিছিল, লাল কার্ড, গ্রাফিতি, ‘৫৬ কেন’ কর্মসূচি, মুখোশ মিছিল, প্রতিবাদী কনসার্টসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি একই দাবিতে কর্মবিরতিতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। ফলে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন আজ
পরবর্তী নিবন্ধবলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন