নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় পুলিশের দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল চট্টগ্রামের মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ৪ জুন ঘটনার ১৩ দিন পর ৭ কার্যদিসের দিন আদালতে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসিতে থাকা নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় চার্জশিট দাখিল করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) তানভীর আহমেদ। চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ–উল আলম চৌধুরী (মারুফ) দৈনিক আজাদীকে বলেন, গত ৪ জুন পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটটি গত রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনালেআসলে সেটি রিসিভ হয়। এরপর আজকে (গতকাল) সেটি গ্রহণ হয়েছে। আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠনের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। দ্রুত সময়ে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ করতে চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।
গত ২১ মে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। সেদিন বিকালে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে যখন থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে লোকজন। অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। একপর্যায়ে শত শত মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে বিক্ষুব্ধ লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে একটি ভবন থেকে বের করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। তখন উত্তেজিত লোকজন সড়কে বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিম শিশুর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতসূত্র জানায়, অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিলকৃত চার্জশিটে ১৩ জন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।












