প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের জেরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার চাপের মুখে পড়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এরই প্রেক্ষিতে আন্দোলনররত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি বলে জানিয়েছে তার সরকার। কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, যেকোনো সময়ে তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে জিতেন্দ্র ছাড়াও থাকবেন আর এক মন্ত্রী জেপি নড্ডা। নড্ডার বাড়ি বা অফিসে আলোচনা হতে পারে। কথা বলে সমস্যার সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন মন্ত্রী। কিন্তু সিজেপি এই আমন্ত্রণ খারিজ করে দিয়েছে বলে খবর। তারা নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা চায়। খবর আনন্দবাজার ও বিডিনিউজের।
জিতেন্দ্রের বক্তব্য, এই নিয়ে বুধবার বিকেল থেকে মোট চারবার বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য ডাকা হল। সরকার শিক্ষার্থীদের হিতাকাঙ্ক্ষী এবং তাদের দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, সরকার চারবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভকারীদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমাদের বার্তা, সমস্ত বিষয় নিয়ে সরকার আপনাদের সুবিধামতো যেকোনো সময়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমি আপনাদের সকলকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, আসুন, আলোচনায় বসুন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডার বাড়ি বা অফিসে বৈঠক হতে পারে। নড্ডা এবং আমি সেখানে থাকব। আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমরা একটা সমাধানের দিকে এগোব।
সরকার বারবার ডাকলেও নড্ডার বাড়ি বা দফতরে আলোচনায় রাজি নয় সিজেপি। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নড্ডার আমন্ত্রণপত্র যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তা নাকচ করে দিয়েছেন।
কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের যন্তর মন্তরে বা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসার ডাক দিয়েছেন ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। জিতেন্দ্রের প্রস্তাব মতো নড্ডার বাড়ি বা অফিসে বৈঠকে বসতে তারা নারাজ। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আলোচনায় বসার কথা বললেও সমান্তরালভাবে বিক্ষুব্ধদের উপর দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তাও অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবি, মন্ত্রীদের বাড়িতে গিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। সকলের সামনে জনগণের আদালতে আলোচনা করতে হবে। মন্ত্রীদের আসতে হবে বিক্ষোভস্থলে।
রাতে আবারও লাঠিচার্জ–টিয়ার শেল : ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদস্থল দিল্লির যন্তর মন্তরে বুধবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুইজন এসিপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রতিবাদস্থল থেকে পুলিশের ধারণ ও প্রকাশ করা ভিডিওগুলোতে বিশৃঙ্খল দৃশ্য দেখা গেছে, প্রতিবাদকারীরা পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করেছে ও সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে এতে অভিযোগ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে পরে ওই এলাকায় ইন্টারনেট জ্যামার সক্রিয় করা হয়।
পুলিশের ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক উত্তেজিত প্রতিবাদকারী শ্লোগান দিচ্ছে ও পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য একে অপরকে উস্কানি দিচ্ছে। অন্তত একজন নিরাপত্তা সদস্যকে প্রতিবাদকারীরা ঘিরে ফেলে দলবেঁধে পিটিয়েছে। ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, একদল প্রতিবাদকারী ওই মারমুখী লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন আর থামতে বলেন, কিন্তু তেমন একটা সফল হননি।
পুলিশের এসিপি পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাকে আহত অবস্থায় দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে চোট লেগেছে। এসিপি জয় প্রকাশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিছু প্রতিবাদকারী পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে গণ্ডগোল শুরু হয়। এ সময় তার কপালে পাথরের আঘাত লাগে। সিজেপি দাবি করেছে, পাথর ছুড়েছে ও হট্টগোল করেছে বিজেপির গুণ্ডারা।
ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার পর যন্তর মন্তরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। ভিড় বাড়ার মধ্যে পুলিশের ওপর একাধিকবার পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।












