চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব করতে চাকসুর উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি ইলেক্ট্রিক বাইসাইকেলের মাধ্যমে জোবাইক সেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল–ফোরকান এ সেবার উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল–আমীন, উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সফিকুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁঞা, সহ–যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবাইদুল সালমান, গবেষণা ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন এবং জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেদী রেজাসহ সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিকভাবে ৪০ দিনের জন্য ১০টি প্যাডেল–অ্যাসিস্ট জোবাইক চালু করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাঁচটি জোনে এসব বাইকের পার্কিং সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জোবাইকের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে বাইক চালু ও বন্ধ করতে পারবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সেবাটির ভাড়া প্রতি মিনিট ১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাহিদা ও ব্যবহারকারীদের সাড়া বিবেচনায় পরবর্তী পর্যায়ে প্রায় ১০০টি প্যাডেল–অ্যাসিস্ট জোবাইক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তখন শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া প্রতি মিনিট ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হবে।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁঞা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯–২০ সালের দিকে প্রথমবারের মতো জোবাইক সেবা চালু হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেবাটি বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা এটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৫ সালে জোবাইকের সিইও মেহেদী রেজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় সেবাটি চালুর অনুরোধ জানাই। এরই ধারাবাহিকতায় আজ পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি জোবাইক চালু করা হয়েছে।
জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মেহেদী রেজা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জোবাইক পুনরায় চালুর দাবিতে ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীরা একটি পিটিশন করেছিলেন। পাশাপাশি কিছুদিন পূর্বে চাকসু ভিপি, যোগাযোগ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকে আমরা বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছিলাম। অবশেষে আজ (বৃহস্পতিবার) জোবাইক নিয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরেছি। আগে এখানে শুধু প্যাডেল সাইকেল ছিল, তবে এবার আমরা ইলেকট্রিক বাইক (ই–বাইক) সেবাও যুক্ত করেছি।









