চট্টগ্রাম–কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের চন্দনাইশের মাজার পয়েন্ট সেতুর ওপর (বরুমতি ব্রিজ) থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধারের পর মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু হয়। তার নাম মোহাম্মদ হাশেম (৩৬)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সেতুর উপর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে চন্দনাইশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশারপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে। তবে তিনি বাপের বাড়ির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করছিলেন। পরিবারের দাবি তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায় সময় তাকে মারধর করতো। এ ঘটনায় হাশেমের স্ত্রী আয়শা আকতারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
নিহতের মা মরিয়ম খাতুন জানান, ১৪/১৫ বছর আগে তার ছেলে হাশেম দোহাজারী চাগাচর এলাকার আপন ফুফাত বোন আয়শা আকতারকে বিয়ে করে। পরে স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকের প্ররোচনায় হাশেম বাপের দেয়া ঘরবাড়ি ও জায়গা জমি বিক্রি করে শ্বশুর বাড়ি চলে যায়। এরপর হাশেম শুধু ঈদে বাড়িতে বেড়াতে আসতো। তার ছেলে শ্বশুর বাড়িতে চলে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং মারধর করতো। সমপ্রতি গত মাসেও স্ত্রী তাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। তিনি জানান, গত বুধবার রাতেও তাকে মারধর করে সকালে সিএনজি টেক্সিতে করে হাশিমপুর রেলস্টেশনে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় কৃষকরা দেখে ফেলায় রেল লাইনে ফেলতে পারেনি। পরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি ব্রিজে ফেলে যায়। তিনি তার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান। চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটের দিকে স্থানীয় এক মাদ্রাসার হুজুর ও কয়েকজন মাদ্রাসার ছাত্র মুমূর্ষু অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এসময় তার ডান পা মধ্যখানে পুরো ভাঙা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার ডান পায়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায় বলে জানান তিনি।
চন্দনাইশ থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আলমগীর জানান, এ ঘটনায় ভিকটিম হাশেমের স্ত্রী আয়শা আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে ৯৯৯ নম্বরে খবর পান বরুমতি ব্রিজে আহত অবস্থায় এক ব্যক্তি পড়ে রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মোহাম্মদ হাশেমকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক পথচারী উদ্ধার করে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। এসময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। তার একটি পা ভাঙা ছিল। প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।










