পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা–কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গতকাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আমাদের সাতকানিয়া প্রতিনিধি জানান, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারো ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গেছে উপজেলার প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা। বন্যা কবলিত এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মানুষ। এসব এলাকার অনেক বসত ঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে, পৌরসভা ও থানায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সাঙ্গু ও ডলুনদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট–বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে ও দস্তিদার হাটের পূর্ব পাশে সড়কের উপর দিয়ে কয়ক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারনে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ডলুনদী দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েক শত ফুট বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। বন্যা কবলিত এলাকার সব রাস্তা–ঘাট এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বেশির ভাগ এলাকায় এখনো পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান মুজিব সোনাকানিয়ার গারাঙ্গিয়ায় এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক কেঁওচিয়া ও ঢেমশা এলাকায় ব্যক্তিগত ভাবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।
চন্দনাইশ প্রতিনিধি জানান, চন্দনাইশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ডুবে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে শঙ্খনদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে উপজেলার বিভিন্ন অংশে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এদিকে গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম–কঙবাজার জাতীয় মহাসড়কের চন্দনাইশ হাশিমপুর অংশ ডুবে প্রায় দেড় ফুট উচ্চতা বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও ছোট ছোট যানবাহন চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উক্ত পয়েন্ট দিয়ে ধীরে ধীর গাড়ি চলাচল করলেও মহাসড়কে যানজট লেগে আছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের অবনর্ণীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।












