প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামে অনেক নতুন কলকারখানা তৈরি হবে। সেখানে দেশের বেকার তরুণ–তরুণীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। গতকাল রোববার বিকালে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারীদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যারা বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সংস্কারের বড় বড় কথা বলছে।
অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী, অসুস্থ, দুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রতিনিধিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। খবর বাংলানিউজের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী আছে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে, অতীতে তাদের ভূমিকা কী ছিল। ’৭১, ’৮৬ কিংবা ’৯৬ সালে তারা কী করেছে। বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। আর এখন তারা সংস্কারের কথা বলছে। অথচ দেশে সবচেয়ে আগে সংস্কারের প্রস্তাব বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ২০২২ সালে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান দেওয়া যাবে না। তারা বিভ্রান্ত করতে এলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, গ্রামের মানুষকে যাতে সামান্য অসুখেই জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে না হয়, সেজন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিলেবাস এমনভাবে তৈরি করতে চাই, যেন একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পরই আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা যেন দুটি বিদেশি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং যেকোনো একটি খেলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পারদর্শী হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ আমরা আবার শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য, ক্রীড়াও যাতে একটি পেশা হতে পারে, সেভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলা।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত চার বছর ধরে (২০২২ সালের পর থেকে) ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক অবসর ভাতা পাচ্ছিলেন না। স্বৈরাচারের আমলে সেই টাকা নয়–ছয় করে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। আপনাদের নির্বাচিত বিএনপি সরকার গতকালই সেই শিক্ষকদের পেনশনের ব্যবস্থা করেছে এবং ভাতার বড় অংশ তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর ট্যাঙ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে। আল্লাহর রহমতে অতীতের মতো এবার বাজেট দেওয়ার পর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। জনগণের স্বস্তির কথা মাথায় রেখেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষকদের সেচ সুবিধা ও গ্রামীণ মানুষের পানি সংকট দূর করতে খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, সারা দেশে আগামী ২০ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই।
মৎস্য ও কর্মসংস্থান বাড়াতে জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারের আহ্বান : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন বাজার খুঁজে বের করার জন্য দেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে বহু নদী–নালা, খাল–বিল, পুকুর ও হাওর অলস পড়ে রয়েছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে মৎস্য পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বেকার তরুণদের মধ্যে এসব জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ বণ্টন করা হবে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গতকাল দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।











