চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়ার প্রবেশদ্বার তাপবিদ্যুৎ থেকে গোডাউন পর্যন্ত এই প্রশস্তকরণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম–৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন এবং মাটি কেটে কাজের সূচনা করেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, তাপবিদ্যুৎ থেকে গোডাউন পর্যন্ত প্রশস্তকরণ কাজ আপাতত শুরু হলেও আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কাপ্তাই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। আমরা এ নিয়ে নিয়মিত নীতিগত আলোচনা ও সভা করছি। ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামলাতে এই সড়কটিকে ফোর লেনে রূপান্তর করা হবে।
কর্ণফুলী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত ‘চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট সেতু’ নির্মাণ নিয়ে তিনি জানান, সেতুর পরিকল্পনা ও দাপ্তরিক কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি বলেন, আশা করছি আগামী বছরের মধ্যেই কর্ণফুলী নদীর ওপর এই মেগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির সাথে বান্দরবান জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর রাঙ্গুনিয়ার সৈয়দ আলী সড়ক এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার হাজী সৈয়দ আলী সড়ক প্রশস্ত করার বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উপজেলায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে সংসদ সদস্য বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় আমরা প্রয়োজনীয় খাস জমি খুঁজে পেয়েছি। আশা করছি দ্রুতই এখানে কারিগরি শিক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, যা স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংবাদকর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ঠিকাদারদের ওপর আমরা ভরসা রেখেছি, তবে কাজ কত দ্রুত এবং মানসম্মত হচ্ছে তা দেখার বড় দায়িত্ব সাংবাদিকদের। প্রেস যদি নিয়মিত কাজের অগ্রগতি তদারকি করে এবং ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বজায় রাখে, তবেই উন্নয়ন স্থায়ী ও জনকল্যাণমুখী হবে।














