এক্সপ্রেসওয়ের নিচের ডিভাইডারে চসিকের সৌন্দর্যবর্ধন ও বিজ্ঞাপন চুক্তি, সিডিএ’র আপত্তি

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ৩ জুলাই, ২০২৬ at ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মধ্যে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত এক্সপ্রেসওয়ের নিচের অবকাঠামো হস্তান্তর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে এক্সপ্রেসওয়ের নিচের রাস্তা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চসিকের কাছে হস্তান্তর করা হলেও, ডিভাইডার এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর কোনো ধরনের সৌন্দর্যবর্ধন, লিজ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার হস্তান্তর করা হয়নি বলে দাবি করেছে সিডিএ। এ অবস্থায় এক্সপ্রেসওয়ের নিচের ডিভাইডারে সৌন্দর্যবর্ধন, বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য চসিকের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল সিডিএ সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সমপ্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, পতেঙ্গা সীবিচ থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ, নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন, ছোটবড় বিলবোর্ড স্থাপন, ব্র্যান্ডিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করছে বা করেছে।

সিডিএ বলেছে, ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল সম্পাদিত হস্তান্তর চুক্তি অনুযায়ী চসিকের কাছে কেবল এক্সপ্রেসওয়ের নিচে প্রায় ১৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার রাস্তা, কিছু স্থানে নির্মিত ড্রেনকামফুটপাত এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সংরক্ষণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। তবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং এর নিচে নির্মিত ডিভাইডারের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ স্পষ্টভাবে হস্তান্তরের বাইরে রাখা হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ কারণে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সীবিচ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও এর নিচের ডিভাইডারে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সৌন্দর্যবর্ধন, ভাড়া বা লিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে এ ধরনের কোনো লিজ বা চুক্তি হয়ে থাকলে তা বাতিল করার জন্যও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিলের হস্তান্তরপত্রে দেখা যায়, চউক আইন২০১৮এর ২৬ ধারা অনুযায়ী সীবিচ থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের নিচের রাস্তা চসিকের কাছে হস্তান্তরের আগে দুই সংস্থার যৌথ প্রতিনিধিরা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, রাস্তার দুই পাশে লেন মার্কিং ও প্রয়োজনীয় রোড সেফটি আইটেম সংযোজনের কাজ সিডিএর অর্থায়নে সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন করবে। সে অনুযায়ী এসব কাজের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে ২ কোটি ৭৯ লাখ ৬২ হাজার ১৭ টাকা প্রদান করে সিডিএ। ওই অর্থের চেক হস্তান্তরের পরই রাস্তা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে চসিকের কাছে অর্পণ করা হয়।

তবে সেই হস্তান্তর নথিতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং এক্সপ্রেসওয়ের নিচে নির্মিত ডিভাইডারের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ হস্তান্তরের আওতায় থাকবে না। সিডিএর সর্বশেষ চিঠিতে সেই শর্তের কথাই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে চসিককে ডিভাইডারসংক্রান্ত কোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নানা কারণে র‌্যাম্পের অনেকগুলো কাজ সিডিএ সময়মতো শেষ করতে পারছে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স অনেক কাজই করছে না। এখন আমরা যেগুলো শুরু করেছি সেগুলো শেষ না হলে তো সমস্যা। তিনি বিষয়টি নিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের সাথে বসবেন জানিয়ে দৈনিক আজাদীকে বলেন, দুটি সংস্থাই নগরীর উন্নয়নে কাজ করছে। নগরবাসীর জন্য কাজ করছে। এখানে কোনো বিরোধ নেই। আমরা আলাপ আলোচনা করে যেটা নগরবাসীর জন্য ভালো হবে সেটাই করবো ইনশাআল্লাহ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচকবাজারে ছয় ‘পেশাদার ছিনতাইকারী’ গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধবিনিয়োগে চোখ রেখে নতুন ভিসা নীতিমালা