আসিয়ান কাপে গ্রুপের সব দলই বেশ শক্তিশালী। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে। তবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নন। ভীষণ কঠিন চ্যালেঞ্জেও এক বা দুটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় শুরু হতে যাওয়া আসিয়ান কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশনে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু হবে বাংলাদেশের। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার বেলা ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এরপর সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলবে টমাস ডুলির দল।

বাংলাদেশের চেয়ে এই তিন দলই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটা এগিয়ে। ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম, সিঙ্গাপুর ১৪৮তম। আর বাংলাদেশ ১৮১তম। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল। ‘অবশেষে ইন্দোনেশিয়ায় আসতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা আরও কিছুটা আগে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আসতে পারিনি। তবে অবশেষে আমরা এখানে এসেছি। কোচ যেমন বলেছেন, আমরা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি। আমরা জানি, এটি কঠিন হতে যাচ্ছে, তবে আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমাদের ভালো আত্মবিশ্বাস রয়েছে, কিন্তু আমরা জানি এটি কঠিন হবে’। ‘সফল হতে হলে আপনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইবেন, ভালো ম্যাচ খেলতে চাইবেন। অবশ্যই কোচ যেমন বলেছেন, এটি আমাদের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট। কারণ এক মাসের মধ্যে আমাদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে, যা আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে অবশ্যই, একটি দল হিসেবে আমরা প্রতিযোগিতা করতে চাই এবং যদি আমরা কয়েকটি পয়েন্ট পেতে পারি বা এক–দুটি ম্যাচ জিততে পারি, তবে তা আমাদের জন্য খুবই সফল একটি সফর হবে।’
এদিকে ফিফা আসিয়ান কাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখছে মালয়েশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএএম)। তবে এখনই এত দূরের কথা ভাবতে নারাজ দলটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ তান চেং হো। তার সব মনোযোগ আপাতত উদ্বোধনী ম্যাচে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। গতকাল ম্যাচ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার কোচ তান চেং হো স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিরোপার চেয়ে প্রথম ম্যাচেই তাদের বেশি নজর। তিনি বলেন, ‘যেকোনো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন হয়। তাই আমরা এখন পুরোপুরি বাংলাদেশ ম্যাচটিতেই ফোকাস করছি।’ এফএএম–এর নতুন সভাপতি দাতুক আব গনি হাসান দলকে ফাইনালে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে একে বাড়তি চাপ হিসেবে না নিয়ে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছেন মালয়েশিয়া কোচ।
তার মতে, ‘সভাপতির লক্ষ্যটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফুটবলাররা প্রথমবার এই টুর্নামেন্ট খেলতে মুখিয়ে আছে। এখানে প্রতিটি ম্যাচ ও পয়েন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল দিয়ে আসর শুরু করাটা আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি।’ প্রস্তুতির সময় খুব একটা না পেলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে স্বস্তিতে আছে মালয়েশিয়া শিবির। স্কোয়াডের ২৩ জন ফুটবলারই পুরোপুরি ফিট আছেন। যদিও দল ঘোষণার পর শেষ মুহূর্তে তিনজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে হয়েছে তাদের।
এ প্রসঙ্গে তান চেং হো বলেন, ‘গত কয়েকদিনে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনজন ফুটবলারকে বদলাতে হলেও, স্কোয়াডের সবাই এখন প্রস্তুত। সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে আমি আনন্দিত।’ বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াইয়ের তিন দিন পর একই স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়া। এরপর ১ অক্টোবর বান্দুংয়ের সিয়ালাক হারুপাত স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়বে তারা। আসরের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ অক্টোবর, গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামেই।













