আমদানি পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা করা যাবে বেসরকারি ল্যাবে

| রবিবার , ১৪ জুন, ২০২৬ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতি বিবেচনায় বিভিন্ন আমদানি পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা এখন থেকে বেসরকারি ল্যাবরেটরিতেও করা যাবে। এর জন্য বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ও আন্তর্জাতিক স্টান্ডার্ডাইজেশন সংস্থাআইএসও এর স্বীকৃত হতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের স্বীকৃত পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। খবর বিডিনিউজের।

আমদানি পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা কাস্টমসের ল্যাবরেটরি বা সরকারি ল্যাবরেটরিতে হয়ে আসছে। ব্যবসাবাণিজ্য সহজের লক্ষ্যে এবং আমদানি পণ্যের নমুনা পরীক্ষার সময় বাঁচাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডএনবিআর এ আদেশ জারি করেছে। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার দিন এনবিআর এ আদেশ জারি করে। সে দিন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।

জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আমদানি নীতি আদেশের বাধ্যবাধকতা মানা এবং আমদানিকারকের ঘোষণার সঠিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা করে আসছে। এসব রাসায়নিক পরীক্ষা বর্তমানে শুধুমাত্র কাস্টমস ল্যাবরেটরি অথবা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে সম্পন্ন হয়। আর এসবের বড় অংশ হয় রাজধানী ঢাকাতেই।

দেশের সবচেয়ে বেশি পণ্য আসা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নমুনা এনে ঢাকায় ল্যাবে পরীক্ষার পর এর প্রতিবেদন পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় এবং এরজন্য বন্দরের মাশুলসহ নানান খরচের মুখোমুখি হতে হয় ব্যবসায়ীদের।

এনবিআর তাদের নতুন আদেশে বলেছে, ল্যাবরেটরিসমূহের ‘নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে’ রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পেতে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হয়’ এবং সে কারণে কিছু ক্ষেত্রে ‘পণ্য খালাসে বিলম্ব’ হয়ে থাকে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করলে তিনি বেসরকারিভাবে চট্টগ্রামে ল্যাব স্থাপন এবং তারাই যেন তাদের পণ্য পরীক্ষা করতে পারে, সেজন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। এর প্রেক্ষিতে বেসরকারি ল্যাবরেটরির মাধ্যমে আমদানি পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষার সুযোগ দিল এনবিআর। তবে আমদানি নীতি আদেশে যে সকল পণ্যের শর্ত পরিপালন করার জন্য ‘সুনির্দিষ্ট’ কর্তৃপক্ষ বা ল্যাবরেটরিকে নির্দিষ্ট করা থাকবে, সে সকল পণ্যের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না। এক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশে বলে দেওয়া কর্তৃপক্ষ বা ল্যাবরেটরিতে পণ্য পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসুবিধাবঞ্চিত মানুষের পুষ্টির যোগানে ফল উৎসব
পরবর্তী নিবন্ধআনোয়ারায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন