জামালপুরের মেলান্দহে আট মাসের শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক তরুণীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার চর বানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকী গোয়ালবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে মেলান্দহ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান জানান।
আটক শ্রাবন্তী আক্তার (২০) ওই এলাকার হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী ও জামালপুর সদর উপজেলার কম্পপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের মেয়ে। দুই বছর আগে শ্রাবন্তী ও হুমায়ুনের বিয়ে হয়েছিল। তাদের আট মাস বয়সী ছেলের নাম শাওন। খবর বিডিনিউজের।
হুমায়ুন কবিরের বাবা খাদেম আলী বলেন, গত শনিবার রাতে হুমায়ুন ও শ্রাবন্তী তাদের ছেলে শাওনকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রোববার ভোর ৫টার দিকে স্ত্রী ও সন্তানকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের লোকজনকে জানায় হুমায়ুন। সকাল ৬টার দিকে স্থানীয় ভাবকি বাজার থেকে আমাদের পরিচিত লোক ফোন করে জানায় যে হুমায়ুনের বৌ সেখানে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। লোকজনের সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটকে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, পরে আমরা সেখান থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। শাওনের কথা জিজ্ঞেস করলে সে বলে কেউ একজন তাকে নিয়ে গেছে। তার কথা সন্দেহজনক হলে বাড়ির লোকজন তাকে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে। কিছুক্ষণ পর বাড়ির পাশের পুকুরে নাতিরে ভাসতে দেখে সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি।
তবে শ্রাবন্তী আক্তারের দাবি, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কেউ ঘরের দরজায় টোকা দিলে তিনি উঠে দরজা খুলে দেন। এ সময় মুখোশ পরা এক ব্যক্তি তার মুখে রুমাল দিয়ে অজ্ঞান করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে ভাবকী বাজার এলাকায় নিয়ে নামিয়ে দেয়। সেখানে তার জ্ঞান ফিরলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ধরে নিয়ে বেঁধে রাখে।
শিশুটির বাবা হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, শ্রাবন্তীর একাধিক ছেলের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই এ নিয়ে সংসারে ঝগড়া লেগেই থাকতো। এর জন্য সে আমার ছেলেকে হত্যা করে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলো। এর আগেও ওরে নিয়ে কয়েকবার বিচার সালিস হয়েছে। ও–ই আমার ছেলেকে মাইরা ফেলছে।
ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূ ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুর মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মাকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।












